কলকাতার আকাশে উত্তেজনার পারদ ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুটবলপ্রেমী শহর দীর্ঘদিন পর এমন এক মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, যা ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারত। হাজার হাজার মানুষ টিকিট কেটে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের দিকে রওনা দিয়েছিলেন একটাই স্বপ্ন নিয়ে—এক ঝলক লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে এমন হতাশায় বদলে যাবে, তা কেউ ভাবেননি। মেসি মাঠ ছাড়ার পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে, আর মুহূর্তের মধ্যেই গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা।
দর্শকদের একাংশ অভিযোগ তুলতে শুরু করেন, ভিআইপি কালচারের জেরে সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বহু মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করেও মাঠে ঢোকার সুযোগ পাননি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে—ভেঙে ফেলা হয় চেয়ার, তোরণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন হিমশিম খায়। এমনকি নিরাপত্তাজনিত কারণে রাস্তা থেকেই ফিরে যেতে হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে তিনি মেসির কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে যায় তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীরা একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকেন। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ দাবি করেন, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা টিকিট কার্যত মূল্যহীন হয়ে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ন্যূনতম সাড়ে তিন হাজার টাকার টিকিট বহু মানুষের মাসিক আয়ের সমান। সেই মানুষদের বাদ দিয়ে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি মেসিকে ঘিরে রেখেছেন—এটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক।
এরপর অভিযোগ আরও তীব্র হয়। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, গোটা ঘটনাটির দায় শাসকদলের নেতাদের ওপরই বর্তায়। তাঁর অভিযোগ, টিকিটের কালোবাজারি হয়েছে, দাম পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। যাঁরা বোতল ছুঁড়েছেন, তাঁরাও শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত—এমনই তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুকান্ত, বলেন ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
আরও পড়ুনঃ Lionel Messi : জায়ান্ট স্ক্রিনেও মেসি দেখা হলো না, গ্রেফতার শতদ্রু দত্তের উপর ভক্তদের ক্ষোভ!
শুধু বিজেপি নয়, সিপিএমও এই ঘটনায় সরকারকে নিশানা করেছে। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম কটাক্ষ করে বলেন, বাংলায় যেখানে অনুষ্ঠান, সেখানেই দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে শাসকদল। সব মিলিয়ে, ফুটবলের উৎসব যে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে যাবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। এখন প্রশ্ন একটাই—দোষীদের বিরুদ্ধে সত্যিই কি কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি এই ঘটনাও অন্য অনেক ঘটনার মতোই ধামাচাপা পড়ে যাবে?





