অনলাইনে প্রবাসী বন্ধুদের কাউন্সেলিং করছেন মদন মিত্র, নতুন অবতার সামনে আসতেই ভাইরাল প্রিয় নেতা

মদনদা ইজ ব্যাক! নেটিজেনরা তো তাই বলছেন। কী করছেন এখন প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র? এখন তিনি কাউন্সেলিং করছেন। দুনিয়াজোড়া হতাশার মুখে বিদেশের বন্ধুদের ফোনে কাউন্সেলিং করছেন তিনি! দিনরাতে অসংখ্য বন্ধুর ফোন আসছে। তিনি বলছেন, “আমেরিকা, ইউরোপ থেকে বন্ধুদের ফোন আসছে। তাঁরা জানতে চাইছেন, কী হবে। কেউ বিজ্ঞানী, কেউ গবেষক। তাঁদের ছেলেমেয়েরা আর ঘরে থাকতে পারছে না। রাতবিরেতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছে। পার্কে গিয়ে জগিং করছে। সব হতাশা কাটাতে।” তাঁর অনুভব, “এই সময় ওদের সঙ্গে কথা বললে ওদের একটু ভাল লাগবে। তবে আমি মনে করি, এই অবস্থা আরও তিন মাস চললেও এর বিকল্প নেই।”

সেইসঙ্গে নিজের বহু পরিচিত নম্বরই আবার দিয়ে জানালেন কারোর কোনও সমস্যা থাকলে তাঁকে ফোন করে জানাতে। তাঁর কথায়, “লাইভ ছবিতে নেই। লাইভ প্রোগ্রামিংয়ে আছি। মানুষের পাশে আমি থাকবই।”

দিনরাত এক করে এভাবেই বাড়ি বসে কাজ করে চলেছেন তিনি সঙ্গে চলছে পরিবারকে সময় দেওয়া।

এছাড়াও কখনও দক্ষিণেশ্বর, কখনও ভবানীপুর, এই দুটি বাড়িতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ব মানতে কাউকে সঙ্গেও নিচ্ছেন না। গাড়িও নিজেই স্যানিটাইজ করছেন। তাঁর দাবি, অযথা রাস্তায় তিনি থাকছেন না। আর ভেঙেও তিনি পড়েননি। তবে বাইরে বেরোতে হলেও তাঁকে নিয়ে কেউ যাতে সমস্যায় না পড়ে সেদিকেও নজর রাখছেন। 

এসবের মাঝেই নিজের দৈনন্দিন রুটিনে বদল এসেছে। খাবার পৌঁছনো, হাসপাতালে ভর্তি, ওষুধ দিয়ে আসা সারতে গিয়ে সকালের ভাত খেতেই বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “আর রাতে ভাত খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না। বাকি দিনটা কাটে চা আর প্রচুর কফি খেয়ে। তাই ঘুমটাও কেটে যায়। লোকের সঙ্গে কথা বলে বলে সময়টাও।” 

এরই ফাঁকে সামনে এসেছে তাঁর ঝরঝরে চেহারার নতুন ছবি। চন্দন রঙের কল্কা আঁকা লাল টুকটুকে পাঞ্জাবি গায়ে চড়িয়ে গগলস পরে রসিক ভঙ্গিতে হাতজোড় করা ছবিটা কে আবার তাঁর প্রোফাইলে ছেড়ে দিয়েছে। ব্যস, প্রিয় মদনদা সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল।

যদিও গোঁফচুরির রহস্য নিজেই ফাঁস করলেন একসময়ের ডাকসাইটে তৃণমূল নেতা। “এখন তো সেলুন বন্ধ। নাতির সঙ্গে খেলতে গিয়ে একটা হাতে চোট পেয়েছি। এক হাতেই দাড়ি গোঁফ কামাচ্ছিলাম। সেই করতে গিয়েই গোঁফের একদিক বেশি কাটা হয়ে গেল। তাই পুরোটা ছাঁটতে বাধ্য হলাম।” তাঁর ব্যাখ্যা, “অন্যকে সুস্থ থাকার কথা বলতে গেলে আগে নিজেকে সুস্থ থাকতে হবে। এক গাল দাড়ি, গোঁফ কি এখন ভাল দেখায়?”

৫০০-৬০০ সংগঠন চালান একা হাতে, একাধিক ক্লাব, স্কুলের পরিচালন ভারও তাঁর কাঁধে। তাদের বেতন, অনলাইন ক্লাস সবদিকে নজর রাখতে হচ্ছে। অবসর কোথায়? “এখন তো হাতে আর সময় থাকছেই না। তবু কখনও বই পড়ি, খবর দেখি। আর আছে মহারূপ। আমার নাতি। ও না থাকলে আমার চলত না। যে টুকু সময় পাচ্ছি ওর থেকে শিখে নিচ্ছি কী করে টকিং টমকে খাওয়াতে হয়। মোটু-পাতলুরা কী করে। এইভাবেই চলছে।”— গলায় অদ্ভুত তৃপ্তির সুর নাতিগর্বে গর্বিত এক দাদুর।

RELATED Articles

Leave a Comment