উত্তরপ্রদেশের হাপুরের গড়মুক্তেশ্বর—শান্ত নদীতীরের এই এলাকা সাধারণত শেষকৃত্যের ধোঁয়া আর ভস্মের গন্ধেই পরিচিত। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় আচমকা কিছু অস্বাভাবিক ঘটনাচক্র স্থানীয়দের নজর কাড়ে। শ্মশানের নিত্যদিনের গাম্ভীর্যকে ছাপিয়ে যায় চার যুবকের অদ্ভুত তাড়াহুড়ো। তারা একটি দেহ নিয়ে আসে শেষকৃত্যের জন্য, কিন্তু আচরণের খানিক অসঙ্গতিই সন্দেহের বীজ বপন করে দেয়।
পরের মুহূর্তগুলোতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে শুরু করে। পৌরকর্মীদের নজরে আসে দেহটির ওজন স্বাভাবিক মৃতদেহের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। শেষকৃত্যের প্রস্তুতির জন্য কাঠ, ঘি–সহ সবই আনা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মৃতের মুখ থেকে কাপড় সরাতে বলতেই চার যুবকের আপত্তি আরও সন্দেহ জাগায়। শব্দহীন আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে শ্মশান চত্বরে, স্থানীয়রাও এ ঘটনায় উপস্থিত হন। একসময় পৌরকর্মীরাই পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার যুবকের মধ্যে দু’জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। আর সেই সময়ই বেরিয়ে আসে নকল মৃতদেহের চাঞ্চল্যকর সত্য। গ্রেফতার হওয়া দুই যুবকের নাম কমল সোমানি ও আশিষ খুরানা। দু’জনই দিল্লির বাসিন্দা। তদন্তে জানা যায়—যে দেহটিকে তারা পোড়াতে এসেছিল, সেটি আদতে কোনও মানুষের দেহই নয়,কাপড় জড়ানো একটি ডামি পুতুল। কিন্তু কেন এই নাটক?
পুলিশ সূত্রে উঠে আসে, কমল সোমানির ওপর প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিশাল ঋণ চাপা ছিল। সেই ঋণ শোধ করতেই সে মাথায় খেলে যায় এক ভয়ংকর পরিকল্পনা। নিজের পুরনো কর্মচারী অংশুল কুমারের আধার–প্যান কার্ড নিজের কাছে রেখে, তার অজান্তেই তার নামে ৫০ লক্ষ টাকার একটি বিমা করায় কমল। এরপর অংশুলের নামেই একটি নকল ডেথ সার্টিফিকেট বানিয়ে, শ্মশানে ‘অংশুলের’ দেহ পোড়ানোর নাটক সাজানো ছিল বিমা ক্লেমের উদ্দেশ্যেই।
এদিকে, যে মানুষটিকে ‘মৃত’ বলে দেখানো হচ্ছিল, সেই অংশুল কুমার সম্পূর্ণ অজানা ছিল গোটা ঘটনার। পুলিশ যখন তাকে বাস্তবে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করে, তখন সে নিজেই হতবাক হয়ে যায়। নিজের নামে বিমা, নিজের নকল মৃত্যু—এসব যে কেউ তার অজান্তে পরিকল্পনা করতে পারে, তা তার কল্পনারও বাইরে।
Humayun Kabir : ‘আমার নাম হুমায়ুন, বাবরের পুত্রের নামও হুমায়ুন… তাই আমি বাবরি মসজিদ করবই’— হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যে নতুন বিতর্ক! তীব্র বিতরকের মাঝে ৬ ডিসেম্বর সত্যিই কি শিলান্যাস সম্ভব?
বর্তমানে দুই অভিযুক্ত পুলিশি হেপাজতে, অপর দুই সহযোগী পলাতক। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য—একটি ডামি পুতুলের ‘শ্মশানযাত্রা’ কীভাবে এত বড় প্রতারণার জাল উন্মোচন করে দিল, তা নিয়ে সরগরম স্থানীয় মহল।





