বঙ্গে ‘SIR’ নিয়ে এখনও সরকারি ঘোষণা না এলেও বিতর্ক তুঙ্গে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র অস্থিরতা। রবিবার বিকেলে সেই উত্তাপ আরও বাড়ালেন বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক। ভাষা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে জেলাজুড়ে।
রবিবার বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিবাদ মিছিল। দলের দাবি, বাংলার মনীষী ও ভাষাকে অপমান করছে বিজেপি— তাই এই ‘ভাষা আন্দোলন’ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা থেকে শুরু করে বিধায়ক নিশীথ মালিক নিজেও। মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, SIR প্রক্রিয়ায় যদি ‘প্রকৃত ভোটারদের’ নাম বাদ পড়ে, তবে তার জবাব আগুন দিয়েই দেওয়া হবে।
তাঁর কথায়, “এসআইআর নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে আমরা প্রতিটি বিজেপি নেতা-কর্মীকে ধরে ধরে আগুনে পুড়িয়ে দেব।” এই মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শাসক শিবিরের দাবি, বিজেপি ‘SIR’-এর নামে বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করছে, ভোটাধিকারে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে; আর সেই কারণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছেন বিধায়ক।
তবে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য একেবারেই উল্টো। বর্ধমান জেলার বিজেপি মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষ তখনই করেন, যখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে যান। SIR শুরু হলে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীই তাদের শায়েস্তা করবে।” তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল ভয় দেখিয়ে মানুষের বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে, বাস্তবে নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
আরও পড়ুনঃ Astrology: নভেম্বরে সৌভাগ্যের ছোঁয়া! মঙ্গলের খেলা বদলে দেবে ৩ রাশির ভাগ্য
অন্যদিকে, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও সাবধানী কৌতূহল রয়েছে। তাঁদের অনেকেই নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগের জটিলতায় ভুগছেন। নিশীথ মালিক এই সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, “আমি জানি, মতুয়াদের সমস্যা হবে, কিন্তু আপনারা আস্থা রাখুন। প্রত্যেকে যেন নিজের ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য প্রমাণ করে তৃণমূল বিজেপির নাগরিকত্ব রাজনীতিকে পালটা মোকাবিলা করতে মরিয়া, আর সেই উত্তাপ এখন গ্রামগঞ্জেই ছড়িয়ে পড়ছে।





