নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশেষ আবহ। জানুয়ারির প্রথম দিন মানেই কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা বদল নয়, বহু তৃণমূল কর্মীর কাছে এই দিন আবেগ, স্মৃতি আর প্রত্যাশার মিশেল। বছরের প্রথম সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের নানা প্রান্তে শুরু হয় দলীয় কর্মসূচি, পতাকা আর স্লোগানে ভরে ওঠে তৃণমূলের অফিস ও কর্মীদের মন। বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এই দিন ঘিরে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার গল্প।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়, ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৮ সালের এই দিনেই কংগ্রেস ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দেন। সেই দল আজ ২৮ বছরে পা দিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসের সূচনা হয়। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী পতাকা তোলেন। উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও কর্মী। শুধু কলকাতা নয়, জেলা, ব্লক ও বুথ স্তরেও পালিত হয় প্রতিষ্ঠা দিবস।
এই প্রতিষ্ঠা দিবসের গুরুত্ব বোঝা যায় দলের অতীতের দিকে তাকালে। এক সময়ের ছোট রাজনৈতিক সংগঠন ধীরে ধীরে রাজ্যের মূল স্রোতে জায়গা করে নেয়। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকে টানা তিনবার বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়ে রাজ্যের শাসনভার সামলাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। দলের কর্মীদের মতে, এই যাত্রা শুধু ক্ষমতায় আসার গল্প নয়, বরং রাজনীতির ধরণ বদলের ইতিহাস।
এ বছর প্রতিষ্ঠা দিবসের তাৎপর্য আরও বেড়েছে অন্য একটি কারণে। কয়েক মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই দিন থেকে তৃণমূল কী বার্তা দিতে চাইছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাকিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের দিকে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের কথা, সামাজিক সুরক্ষা এবং বাংলার স্বার্থ রক্ষার বার্তাই মূল সুর হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ South Dum Dum Municipality: ‘ষড়যন্ত্র সহ্য করা যায় না’—দক্ষিণ দমদমে তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ, পুরবোর্ড ভাঙনের আশঙ্কায় তৃণমূলের অন্দরমহল!
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রতিষ্ঠা দিবস আসলে আগামী ভোটের লড়াইয়ের প্রস্তুতির সূচনা। সংগঠনকে আরও মজবুত করা, কর্মীদের চাঙ্গা রাখা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা—সবই আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হতে পারে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে যেমন নিজেদের রাজনৈতিক অতীতকে স্মরণ করছে, তেমনই অন্যদিকে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতেই এই দিনকে বেছে নিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





