ঘরের মেঝেতে এখনও জল জমে রয়েছে। খাটের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েচে বই-খাতা। ঘরের এককোণে ছোট্ট টুলটার উপর এখনও প্লাস্টিকে মোড়াই রয়েছে পুজোর জন্য কেনা নতুন জামাকাপড়। সেটাই নাকি অষ্টমীতে পরার কথা ছিল্প। কিন্তু পরবে কে? মেয়েটাই তো আর নেই।
আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর জন্মদিন ছিল অনুষ্কার। কিন্তু অকাল দুর্যোগ ও প্রশাসনের গাফিলতি প্রাণ কেড়েছে তরতাজা ওই প্রাণের। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে তার বান্ধবী শ্রেয়াকেও। দক্ষিণ দমদমের বান্ধবনগরের ওই এক চিলতে ঘরে এখন শুধুই মায়ের হাহাকার। সান্ত্বনা দেওয়ারও ভাষা নেই কারোর মুখে।
গতকাল, বুধবার সন্ধ্যায় পড়তে যায় অনুষ্কা। পাশেই তার বন্ধু শ্রেয়ার বাড়ি। তাকে ডেকে নেয় যাওয়ায় সময়। অনুষ্কার মা জানান বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল তারা। কিন্তু উল্টোদিক থেকে দুধের গাড়ি এসে পড়ায় পাশ কাটাতে যায় দুই বন্ধু।
শ্রেয়া টাল না সামলাতে পেরে রাস্তার ধারের লাইটপোস্টে হাত দিয়ে ফেলে। তখনই বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয় সে। অনুষ্কা বুঝতেই পারে নি কী হচ্ছে। ভেবেছে হয়ত শ্রেয়ার শরীর খারাপ করছে। তাকে ধরতে যায় সে। ব্যস, মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ। পড়াশোনা, খাওয়া-ঘুম বাদ দিয়ে বাকী সময়টা একসঙ্গেই কাটত শ্রেয়া-অনুষ্কার। আর একসঙ্গেই চলে গেল তারা। ফাঁকা হয়ে গেল দুই মায়ের কোল।
পাড়ার দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে ক্ষোভ জমেছে এলাকাবাসীর মনে। কোথায় গেল প্রশাসন? নেতা-মন্ত্রীরাও বা কোথায়? প্রশ্ন অনুষ্কার মায়ের। বারবার বলে উঠছেন, “সৌগত রায়ের শাস্তি চাই আমরা। বোঝেন না কীভাবে থাকি, না বুঝে কেন বললেন”?
জানা গিয়েছে, এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য লাগানো অনুচ্চ লাইট পোস্ট সুইচ বক্স খোলা ছিল। ওখানে নাকি এ ধরনের লাইটপোস্টগুলি এ ভাবেই বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে। দুর্যোগের সময় লাইটপোস্টগুলি সুইচ বক্স বন্ধ থাকার কথা। সাধারণ নিয়মে এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে চূড়ান্ত অবহেলার ছবি ধরা পড়ছে। আর তার মাশুল গুনতে হল দুই কিশোরীকে।





