ঢাকে কাঠি প্রায় পড়ল বলে। আর মাত্র একমাস। এরপরই মা দুর্গা আসছেন মর্ত্যে। দিকে দিকে এখন প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্যান্ডেল বাঁধা শুরু হয়ে গিয়েছে। কুমোরটুলিতে এখন চরম ব্যস্ততা। গোটা বাংলায় এখন পুজোর আমেজ।
কিন্তু এ কি! গোটা শহর দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে মেতে উঠলেও শহরের ঐতিহ্যবাহী পুজো বাগবাজার সার্বজনীনে এখনও কোনও প্রস্তুতিই যে নেই। প্যান্ডেল শুরু হওয়া তো দূর, মাঠে এখনও বাঁশও পড়ে নি। কিন্তু কেন এই অবস্থা? তাহলে কী এই বছর বাগবাজার সার্বজনীনের পুজো হবে না? উঠছে প্রশ্ন।
বাগবাজারের পুজো একশো বছর পেরিয়েছে। এই বছর এই পুজো ১০৪তম বর্ষে পদার্পণ করবে। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী পুজোতেই এল ছন্দপতন। কমিটি গঠন নিয়ে নির্বাচনে হয় তুমুল অশান্তি। এর জেরে এই বছর আদৌ বাগবাজার সার্বজনীনের পুজো হবে কী না, সেই নিয়ে ধন্ধ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩২ সালে সোসাইটি অ্যাক্টে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বাগবাজারের পুজো। ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬, ২০১০ সালে নির্বাচন হয়। ১২ বছর পর গত রবিবার বাগবাজারের কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন হয়। সেই ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করেই তুমুল অশান্তি তৈরি হয়। ছেঁড়া হয় ব্যালট।
এই বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী পার্থ রায় বলেন, “বহিরাগতরা ব্যালট ছিঁড়ে দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গৌতম নিয়োগীর থেকে আমি কয়েক ভোটে এগিয়েছিলাম।” এদিকে গৌতম নিয়োগী দাবি করেন, শেষ গণনা পর্যন্ত তিনিই এগিয়েছিলেন। এই দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে এখন পুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে পুজোর উদ্যোক্তা থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই চান যে দেবীর আরাধনা যাতে কোনওভাবেই বন্ধ না হয়।
এই অশান্তির ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ বাগবাজার সার্বজনীনের প্রাক্তন সম্পাদক গৌতম নিয়োগী। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমি লজ্জিত। তবে চাই পুজো হোক”। যে দুই পক্ষের অশান্তির জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাদের তরফে জানানো হয়েছে যে সমস্ত দ্বন্দ্ব ভুলে প্রতি বছরের মতোই এই বছরেও দেবীর আরাধনা হবে। এও জানা গিয়েছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি স্থগিত থাকে, তাহলে পুজোর দায়িত্ব পালন করবে ট্রাস্ট।





