আরজি কর হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসক-ছাত্রীর ওপর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাটি এখনও রয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। এত দিন কেটেছে তদন্ত, বিচার—তবু যেন মনে হচ্ছে কিছু অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে। আর তাই নতুন করে আবেদন নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হলেন তাঁরা। মেয়ের ওপর ঠিক কোথায়, কীভাবে সেই নির্যাতন হয়েছিল, তা নিজের চোখে দেখতে চান নির্যাতিতার মা-বাবা।
সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে একটি আবেদন জানানো হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য—এই ঘটনায় তাঁদের জীবনে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নিরাময়ের পথে একমাত্র ভরসা সত্য উদ্ঘাটন। তাই তাঁরা চান, আরজি কর হাসপাতালের সেই জায়গাটি নিজের চোখে একবার দেখে নিতে। কোথায় তাঁদের মেয়ের শেষ মুহূর্ত কেটেছিল, কোথায় তাঁর ওপর পাশবিকতা হয়েছিল, তা দেখাটাই তাঁদের আবেগগত প্রয়োজন বলেই জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।
এই আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁদের মামলার আবেদন গ্রহণ করেন। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী বৃহস্পতিবার। এখন প্রশ্ন উঠছে, আদালত কি সত্যিই নির্যাতিতার পরিবারকে ঘটনাস্থল দেখার অনুমতি দেবে? এই শুনানিতে সেই দিকেই নজর রাখছেন সকলে।
প্রসঙ্গত, গত অগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। অভিযুক্ত হিসাবে গ্রেফতার হন কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই এবং একমাত্র সঞ্জয়কেই অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয়। নিম্ন আদালত সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে নির্যাতিতার পরিবার সিবিআই তদন্তে অসন্তুষ্ট থেকে হাই কোর্টে অভিযোগ করে।
আরও পড়ুনঃ কালীগঞ্জে বিজয়ের মিছিলেই মৃত্যুমিছিল! বোমায় প্রাণ গেল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্নার, অভিযোগের তির শাসকদলের দিকে
হাই কোর্ট প্রথমে তাঁদের আবেদন খারিজ করলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পরিবার চাইলে ফের শুনানি হতে পারে। সেই অনুযায়ী হাই কোর্টে ফের মামলা শুরু হয় এবং সিবিআইকে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। এই প্রেক্ষিতেই এবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতির দাবি উঠল। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় আদালত, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নির্যাতিতার পরিবার সহ গোটা রাজ্যবাসী।





