সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একটি ভিডিওই কখনও কখনও ঝড় তুলতে যথেষ্ট। ঠিক তেমনই একটি দৃশ্য ঘিরে এখন উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত। একটি ভাইরাল ভিডিও—যেখানে একটি টেবিল জুড়ে সাজানো টাকার বান্ডিল, আর তার সামনে চেয়ারে বসে এক রাজনৈতিক নেতা— সম্প্রতি এটিকে ঘিরেই নতুন করে দুর্নীতির বিতর্ক উসকে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল নগদ অর্থ এল কোথা থেকে, আর এর নেপথ্যে আসল সত্যটাই বা কী?
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বারাসত ১ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে। সাদা শার্ট পরে তিনি চেয়ারে বসে রয়েছেন, সামনে সাজানো টাকার একাধিক বান্ডিল। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা ২৪*৭ আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি, তবুও ছবির দৃশ্যই যথেষ্ট—জনমনে কৌতূহল এবং সন্দেহ তৈরি করার জন্য। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা বারাসত এলাকায় জমি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলেই পরিচিত। তৃণমূলের সক্রিয় নেতা হওয়ার পাশাপাশি তাঁর এই পরিচয় নতুন নয় বলেই দাবি অনেকের। ফলে ভিডিওতে দেখা নগদ অর্থকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন—একজন জনপ্রতিনিধির সামনে এত টাকা কেন? এই টাকা কি কোনও অবৈধ লেনদেনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নগুলিই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সমালোচনার মুখে পড়ে নিজেই মুখ খুলেছেন গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। তিনি ভিডিও ও ছবির সত্যতা স্বীকার করলেও, দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ছবিটি ২০০২ সালের অগাস্ট মাসের। মুরালি গ্রামে জমি সংক্রান্ত একটি লেনদেন চলাকালীন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই টাকা তাঁর ব্যক্তিগত নয়, গ্রামের লোকজনের জমির লেনদেনের অর্থ। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুরনো ছবি-ভিডিও সামনে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee birthday : শত বিতর্কের মাঝেও বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্মদিনে ‘দিদি’ সম্বোধন মোদীর, শুভেচ্ছা বার্তায় কি জানালেন তিনি?
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র প্রকাশ্যে গিয়াসউদ্দিন মোল্লা ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জমি মাফিয়া ও দুর্নীতিগ্রস্তদের নিয়েই তৃণমূলের রাজনীতি চলছে। এই ভিডিও নাকি সেই বাস্তবতারই প্রমাণ। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক দলীয় প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবুও ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্ন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে—যার উত্তর আপাতত সময়ই দেবে।





