রাজ্যের রাজনীতিতে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে উত্তাল হচ্ছে পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকা প্রকল্পগুলি ঘিরে প্রশ্ন উঠলেই সেই বিতর্ক আরও গভীর হয়। ঠিক এমনই এক স্পর্শকাতর বিষয়ে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে। স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব চিত্র কতটা নির্ভরযোগ্য, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলির অবস্থা ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এক একটি বেডে একাধিক রোগীকে থাকতে হচ্ছে। এমনকি, বেডের নীচেও রোগীদের শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে হুমায়ুন কবির প্রশ্ন তোলেন—এটাই কি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব চিত্র?
তাঁর অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার নেয় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ব্যবস্থাপনা ঘিরে। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামের গরিব মানুষ যেখানে প্রকৃতপক্ষে মাত্র কয়েক হাজার টাকার চিকিৎসা পাচ্ছেন, সেখানে বেসরকারি নার্সিংহোমগুলিতে সেই চিকিৎসার বিল ইচ্ছাকৃতভাবে বহু গুণ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, পাঁচ হাজার টাকার চিকিৎসাকে কাগজে-কলমে পঞ্চাশ হাজার টাকা বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই ভুয়ো বিল পাশ করাতে স্বাস্থ্য দপ্তরের কিছু অফিসারকে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে একদিকে নার্সিংহোমগুলির লাভ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রা পায়। বিজেপি সরাসরি এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শুরু করে। দলের সর্বভারতীয় আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগগুলিকে সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে বন্যা ত্রাণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলায় সংগঠিত দুর্নীতি চলছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : তৃণমূল নেতার সামনে লক্ষ লক্ষ নোটের স্তূপ! জমি দুর্নীতির কালো টাকাই কি সামনে এল—ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন!
বিজেপির মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসা রাজ্যের শাসনব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা আরও নড়বড়ে করে দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—স্বাস্থ্য সাথীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আদৌ কতটা স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার উত্তর মিলবে কবে?





