৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও নিজেদের দাবীতেই অনড় টেট উত্তীর্ণরা। করুণাময়ীতে চলছে তাদের আমরণ অনশন। এই ধরনার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে অভিযোগ জানানো হয় যে কোনও কর্মী টেট উত্তীর্ণদের আন্দোলনের জেরে দফতরে ঢুকতে পারছেন না। এর জেরে দফতরের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই ধরনার বিরোধিতা করে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তারা।
তবে সেই আর্জি খারিজ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন যাতে তারা মামলা করে আসেন। এদিন বিচারপতি বলেন, “এত দ্রুত শুনানির কী আছে? এতদিন আন্দোলন চলছে, আর একদিন চললে এমন কী অসুবিধা হবে”? আগামীকাল, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
বলে রাখি, গত সোমবার টেট উত্তীর্ণরা করুণাময়ীর মোড়ে প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান। তাদের দাবী, তাদের অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে। গোটা রাত চলে বিক্ষোভ। আজ সকালে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ তাদের বিক্ষোভ তুলে নিতে বললেও, তাতে কর্ণপাত করেন নি তারা। মঙ্গলবার আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের নিয়োগ না করা হলে তারা আমরণ অনশন করবেন। আজ, বুধবারও অব্যাহত তাদের সেই দাবী।
গতকাল, মঙ্গলবার এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তাঁদের আবেগের প্রতি আমি সহমর্মী। কিন্তু অন্যায্য দাবি মানা যায় না। তাঁরা চাইছেন ২০১৪ সালে তাঁরা টেট পাশ করেছেন, দু’বার ইন্টারভিউ দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা তালিকাভুক্ত হননি। তাঁরা কোনওভাবেই এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন না। নট ইনক্লুডেডদের যদি নিয়োগ দিতে হয়, তাহলে কি সেটা আইনানুগভাবে সঙ্গত”।





