বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকাল থেকে আকাশের মুখভারের জেরে হালকা বৃষ্টি হয়েছিল বটে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দেখা মেলে রোদের। এর জেরে আকাশে উড়তে শুরু করে রঙবেরঙয়ের ঘুড়ি। আর এই ঘুড়িই ডেকে আনল বিপদ। চীনা মাঞ্জার জেরে গলা কেটে ফালাফালা হয়ে গেল যুবকের।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘুড়ি ওড়ানোর সময় ঘুড়ি কোনও জায়গায় আটকে গেলে তার সুতো চারিদিকে ওড়ে। আর তাতেই পথচারীদের জন্য ধেয়ে আসে বিপদ। সেই মাঞ্জা দেওয়া সুতোতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। আর এমনই এক বিপদ ঘটল গতকাল, মঙ্গলবার হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার সলপ ব্রিজের উপর।
সূত্রের খবর, এদিন সলপ ব্রিজের উপর দিয়ে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে বাইক চালানোর সময় আচমকাই গলায় ধারালো কিছু একটায় কেটে যায় তাঁর। ফালাফালা হয়ে যায় গলার বাঁদিকের অংশ। মাংস খুবলে বেরিয়ে আসে রীতিমতো। যুবক বুঝতে পারেন, চীনা মাঞ্জার সুতোর জেরেই এমন অবস্থা হয়েছে তাঁর।
কোনও মতে বাইকটি একটি দোকানের সামনে দাঁড় করিয়ে টোটো নিয়ে অনেক কষ্টে একাই হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। চিকিৎসার পরর ডাক্তাররা জানান যে তাঁর গলায় অস্ত্রোপচার করতে হবে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন ওই যুবকের বাড়ির লোকজন।
এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে
এই প্রথমবার নয়, এর আগেও চীনা মাঞ্জায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে কলকাতায়। মা উড়ালপুলে এই আটকে থাকা চীনা মাঞ্জার সুতোর জেরে প্রাণ খুইয়েছেন অনেক বাইক আরোহী। ২০১৬ সালে পরিবেশ আদালত এই চীনা মাঞ্জা নিষিদ্ধ করলেও, এখনও শহরে বিক্রি হতে দেখা যায় এই মাঞ্জা।
ওই আহত যুবকের পরিবারের লোকজন এমন ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, এমন মাঞ্জা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে এই চীনা মাঞ্জা বিক্রি হয় শহরে? এই ঘটনায় তদন্তের দাবী তুলেছেন ওই যুবকের বাড়ির লোকজন।





