‘নেতাদের বাড়ির বাজারও সামলান কলকাতা পুলিশ’, বিতর্কের মাঝেই পুলিশকে নিয়ে এ কী মন্তব্য করলেন মদন মিত্র?

তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতাদের একাংশ। এদের মধ্যে রয়েছেন ফিরজাদ হাকিম ও সৌগত রায়। এবার পুলিশকে নিয়ে ফের মন্তব্য করে নিজের অবস্থান জানালেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র।

রাজ্যে একজন ফুলটাইমার পুলিশমন্ত্রীর দাবী তুলেছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশমন্ত্রী করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। যদিও এই নিয়ে দলের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। হুমায়ুনের সেই দাবীর প্রেক্ষিতেও মন্তব্য করেন মদন মিত্র।

এই বিষয়ে দলে নবীন-প্রবীণ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “৭০-৮০ বছরের পুরনো অনেক গাড়ি আছে, যা নতুন গাড়িকে হার মানাবে। কোনও প্রবীণ ব্যক্তি যদি সুস্থ থাকেন, তাহলে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়া যায়। মহাভারতের যুদ্ধে নবীন-প্রবীণ মিলেই লড়াই হয়েছিল। সেখানে কেউ বলেননি, ভীষ্ম, দ্রোণাচার্যদের দরকার নেই। প্রত্যেকের ভূমিকা ছিল। নবীনদের দরকার। কিন্তু, তাঁদের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রবীণদের দরকার। তাঁদের অভিজ্ঞতা দরকার”।

সুশান্ত ঘোষকে খুনের চেষ্টার ঘটনায় ফিরহাদ, সৌগতরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে মদন মিত্র বলেন, “নেতার বাড়ির বাজার থেকে মিছিল সামলানো, সবই তো সামলাতে হচ্ছে কলকাতা পুলিশকে। তাহলে ওরা নিজেদের কাজটা করবে কখন? কলকাতা পুলিশ ওভারলোডেড। ইন্টেলিজেন্সে আরও লোক বাড়ালে ভাল হয়। সৌগত দা আমার নেতা। বয়স্ক সৌগত দা এখন দ্রোণাচার্য, পিতামহ ভীষ্মের মতন লেভেলে চলে গিয়েছেন। তাঁকে তো আমার মেনে চলতেই হবে”।

আরও পড়ুনঃ খাতা না দেখেই দেওয়া হয়েছে নম্বর, ফের তুমুল বিতর্কের মুখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

কসবা ঘটনার পর সুশান্ত ঘোষ বেশ আতঙ্কে। মেয়রের কাছে নিরাপত্তার দাবী জানিয়েছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে মদনের বক্তব্য, “সৌগত রায়ের সিকিউরিটির কাজ সৌগতদাকে নিরাপত্তা দেওয়া, কিন্তু তাকে দিয়ে কী কী কাজ করানো হয়। সৌগতদা কি সেটা জানেন? বাজার করানো থেকে চুন, পান, রান্না, তাহলে সে সৌগতদার সিকিউরিটি দেবে কখন? আবার কলকাতা পুলিশকে চাকরি চুরি, ছাত্রদের দাবী, কে ঘর বানিয়েছে, তারপরে ট্যাব, কার বিয়ে ভেঙে গিয়েছে, কে কোথায় কমিশন খেয়েছে এখন সবকিছুর তদন্ত করতে হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ সময় পেলে কাজ করে দেখিয়ে দিতে জানে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে দেখিয়ে দিয়েছিল। কলকাতা পুলিশ আজকে যা বলে সিবিআই ৭৬ দিন পরে তাই বলে। সেটাও দেখলাম”।

RELATED Articles