গুজরাতের সেতু বিপর্যয়ের পর টনক নড়ল মমতা সরকারের, তড়িঘড়ি তিস্তার করোনেশন ও বীরেন্দ্র শাসমল সেতু সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন

মোরবি সেতু বিপর্যয় থেকে শিক্ষা। রাজ্যের দু’টি পুরনো সেতুকে তড়িঘড়ি নতুনভাবে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল মমতা সরকারের তরফে। এই  নিয়ে বৈঠক করল পূর্ত দফতর। জানা যাচ্ছে, শিলিগুড়ির করোনেশন সেতু ও মেদিনীপুরের বীরেন্দ্র শাসমল সেতু অবস্থা খারাপ হওয়ায় তা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে।

তিস্তার নদীর উপর করোনেশন সেতু তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ জমানায়। ১৯৪১ সালে ওই সেতু জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ করোনেশন সেতুর বয়স প্রায় ৮১ বছর হয়ে গেছে। আবার অন্যদিকে, ১৯৭২ সালে মেদিনীপুরে বীরেন্দ্র শাসমল সেতু তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ এই সেতুর বয়সই ৫০ বছর হয়ে গেছে। বীরেন্দ্র শাসমল সেতুর এমনই অবস্থা যে গত ২২ জুন রাতে জেলা শাসক আয়েশা রানি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেন যে ভারী গাড়ি এই ব্রিজের উপর দিয়ে চালানো যাবে না।

নবান্ন সূত্রে খবর, এই দুই সেতুকে পুনর্নির্মাণের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এদিনের এই বৈঠকে আরও একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দুটি সেতুর মূল কাঠামো এক রেখে সংস্কার করা হবে। কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর দুটি নতুন চারলেনের ব্রিজ তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

গত রবিবার সন্ধ্যেয় গুজরাতের মোরবি জেলায় মচ্ছু নদীর উপর কেবল সেতু ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় মৃত্যু সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫০। এই ঘটনার পর সমস্ত রাজ্যেই সেতু নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবঙ্গও। গুজরাতে এই সেতু বিপর্যয়ের পরই বৈঠক হয় নবান্নে। গতকাল, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে পূর্ত দফতরের তরফে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একমাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। এদিন পূর্ত দফতরের আওতায় থাকা সমস্ত সেতুর প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সমস্ত সেতুগুলি সেগুলিতে হাইটবার বসিয়ে বড় ও ভারী যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। রাজ্যের এমন সেতুর সংখ্যা প্রায় ১০-১৫টি।

এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “২০১৮ সালে মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পরে নবান্ন লোক দেখিয়ে এরকমই বৈঠক করেছিল। ব্রিজগুলির রিপোর্টও চেয়েছিল। সেই সময়ে ১৮০০ ব্রিজের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছিল। এই পরীক্ষার পরে বলা হয়েছিল, রাজ্যের ৫০টি ব্রিজের অবস্থা এতটাই খারাপ, যে তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, নতুন করে তৈরি করতে হবে। কিন্তু নবান্ন প্রলেপ দেওয়া ছাড়া কিছুই করেনি শেষমেশ। কেবল পোস্তা এবং ইলামবাজারের অজয় নদীর উপরের একটি ব্রিজ-সহ মোট তিনটি ব্রিজ নতুন করে করা হয়েছিল। বাকি কোনও ব্রিজেই কিছু করা হয়নি। এবারেও তেমনটাই হবে। এ সবই সাধারণের আইওয়াশ ছাড়া আর কিছু নয়”।

RELATED Articles