সন্তান বড় হলেই ভাঙছে সংসার! দীর্ঘ দাম্পত্যের পরেও কেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত?

বিবাহিত জীবন মানেই আজীবন একসঙ্গে পথ চলা, এমন ধারণা বহু যুগ ধরে সমাজে প্রচলিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণায় পরিবর্তন আসছে। সম্পর্কের রসায়ন বদলাচ্ছে, চিন্তাধারায় আসছে আধুনিকতা। এখন শুধুমাত্র সামাজিকতার খাতিরে বা পরিবারের চাপে দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার প্রবণতা কমছে। বরং সুখ ও মানসিক শান্তির কথা ভেবেই মানুষ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাই সম্পর্কের ভিত যদি নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে বিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হলেও অনেকে আলাদা হওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।

আগেকার দিনে দাম্পত্য মানে ছিল দায়িত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি সামলে সংসার চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম সেই মডেল থেকে বেরিয়ে এসেছে। শুধু বর্তমান প্রজন্মই নয়, দীর্ঘ কয়েক দশকের বিবাহিত জীবন পেরিয়েও অনেকেই বিচ্ছেদের কথা ভাবছেন। সন্তান বড় হয়ে গেলে কিংবা কর্মজীবন স্থিতিশীল হয়ে গেলে অনেকেই বুঝতে পারেন, এক ছাদের তলায় থেকেও তারা শুধুই সহাবস্থান করছেন, দাম্পত্যের উষ্ণতা হারিয়ে গিয়েছে বহু বছর আগে। ফলে সংসারের এতটা পথ একসঙ্গে চলার পরও আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বহু দম্পতি।

সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘গ্রে ডিভোর্স’ (Grey Divorce)। ৫০ বা ৬০ বছর বয়সের পর দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। একসময় এমনটা বিরল ছিল, কিন্তু এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রবণতা বাড়ছে। ভারতে যেমন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দা এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতার বিচ্ছেদের খবর নিয়ে চর্চা চলছে, তেমনই আন্তর্জাতিক স্তরেও বহু বছর বিবাহিত থাকার পর দম্পতিদের আলাদা হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ, যা দাম্পত্য সম্পর্কে পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ রাত ২ দিন’ কাটালেই চাকরি! তৃণমূল নেতার কুকীর্তি ফাঁস, অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য!

সন্তান মানুষ করতে করতেই বেশিরভাগ দম্পতির যৌথ জীবন কেটে যায়। সন্তান বড় হয়ে গেলে বা কর্মসূত্রে অন্যত্র চলে গেলে তখন একাকিত্ব চেপে বসে। সেই একাকিত্ব কাটানোর জন্য যিনি সঙ্গী, তাঁর সঙ্গেই যদি মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়, তাহলে একসঙ্গে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। আবার, আগে অর্থনৈতিকভাবে নারীরা অনেকটাই স্বামী-নির্ভরশীল ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে। ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধা অনেকটাই কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু দায়িত্ব পালন করলেই হয় না, সম্পর্কের উষ্ণতাও ধরে রাখতে হয়। যৌনতা, মানসিক সংযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া— এসবের অভাবে ধীরে ধীরে সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। আগে সামাজিক ও পারিবারিক চাপে অনেকে এসব মানিয়ে নিলেও, এখন মানুষ নিজের সুখকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর তাই বহু বছরের সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক দম্পতি।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles