সমাজ কি সত্যিই নারীদের জন্য নিরাপদ? প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটে চলেছে নারীদের প্রতি অবমাননার ঘটনা। কখনো রাস্তায় হেনস্থা, কখনো অফিসে শ্লীলতাহানি, আবার কখনো কাজের নামে কুপ্রস্তাব। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েই চলেছেন, কারণ তারা জানেন, শেষ পর্যন্ত শাস্তি এড়ানো সম্ভব। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় ফের উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক মহিলাকে হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর সঙ্গে দুই রাত কাটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “এটা তৃণমূলের সংস্কৃতি। যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলাদের অসম্মান করা হয়। বাংলার মা-বোনেরা আজ সুরক্ষিত নন।” বিজেপির দাবি, শাসকদলের নেতারা মহিলাদের সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ। ক্ষমতার দম্ভে তারা যেকোনো কিছু করতে পারেন। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, “এমন বিকৃত মানসিকতার নেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। সরকার কি চুপ করে থাকবে?”
ভাইরাল হওয়া অডিওতেই স্পষ্ট, কীভাবে এক তৃণমূল নেতা ওই মহিলাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। অডিওতে মহিলা বারবার জিজ্ঞাসা করছেন, তাঁকে কী করতে হবে, উত্তরে নেতা বলছেন, “২ রাত ২ দিন…”। এরপর আবার বলেন, “কাজের জন্য না, এমনি অনেকদিন যাব যাব করছি।” অডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের ব্লক নেতা নারায়ণ চন্দ্র পাঁজা জানিয়েছেন, “এ ধরনের ঘটনা যদি সত্যি হয়, তাহলে অভিযুক্তকে দল থেকে সাসপেন্ড করা উচিত। পরে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।” অন্যদিকে, গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক বলেছেন, “তৃণমূল নারীদের নিরাপত্তার কথা বলে, অথচ তাদের নেতারাই এমন ঘৃণ্য কাজ করছে।”
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারির শেষেই বদলাবে আবহাওয়া! উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি-তুষারপাত, দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে গরম!
এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা কী হবে, তৃণমূল কংগ্রেস অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে, তা এখন দেখার। কিন্তু এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নারীরা কি এভাবেই প্রতারণার শিকার হবেন? ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে কি সত্যিই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সমাজ কি আদৌ বদলাবে?
‘খবর ২৪x৭’ এই অডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি।





