বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সেই প্রশ্নকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকা এক হিন্দু সন্ন্যাসী, যাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত মামলা চলছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে ভয়ংকর অপরাধের দাবি করা এক ছাত্রনেতার দ্রুত জামিন— এই দুই বিপরীত চিত্র ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, আইন কি সবার জন্য সমান?
এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে হবিগঞ্জের ছাত্রনেতা মেহদি হাসানের নাম। গ্রেফতারির মাত্র একদিনের মধ্যেই তিনি জামিন পেয়ে যান। শনিবার তাঁকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। মেহদির বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বাইরেও তাঁকে ঘিরে রয়েছে আরও গুরুতর বিতর্ক।
মূল বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভিডিও ঘিরে। হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে থানার ভিতরেই কর্তব্যরত এক হিন্দু পুলিশ অফিসারকে হুমকি দিতে দেখা যায় মেহদিকে। সেই সময় তিনি দাবি করেন, অতীতে এক পুলিশ আধিকারিককে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসের ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসআই সন্তোষ চৌধুরীর নামও উল্লেখ করেন। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে এবং বিভিন্ন মহল থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের আগে ও পরে মেহদি অবশ্য নিজের বক্তব্যে পরিবর্তন আনেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, পুলিশ অফিসারকে পুড়িয়ে মারার কথা বলা ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’। একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাঁর যুক্তি, একসময় অনেকেই ছাত্রলীগ করেছেন, তাই শুধুমাত্র সেই পরিচয়ে কাউকে দোষী করা যায় না। এই বক্তব্য ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ Blac*kmail Case : যৌন*তার ফাঁদে আইনজীবী! ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের গোপন ভিডিও রেকর্ড করে ৪০ লক্ষের ব্ল্যাকমেল— গ্রে*প্তার বাংলার তরুণী!
এই ঘটনার পাশাপাশি আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশদ্রোহিতার মামলায় জেলে রয়েছেন হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু। তাঁর বিরুদ্ধে পরে ভুয়ো খুনের মামলাও রুজু হয়েছে বলে অভিযোগ। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি জামিন পাচ্ছেন না। একদিকে প্রকাশ্যে ভয়ংকর অপরাধের দাবি করা একজন দ্রুত মুক্তি পাচ্ছেন, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও একজন সন্ন্যাসীর মুক্তি মিলছে না— এই বৈপরীত্যই আজ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।





