সম্প্রতি সামনে আসা একটি ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, বিশ্বাস আর সম্পর্কের আড়ালে কীভাবে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে পারে ভয়ংকর ফাঁদ। পরিচয়, কথাবার্তা, ঘনিষ্ঠতা—সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল প্রথমদিকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক যে ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে, তা বুঝে ওঠার আগেই বিপাকে পড়েন এক আইনজীবী। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন উত্তাল এলাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম প্রিয়াঙ্কা। তিনি আদতে বাংলার হলেও বর্তমানে দিল্লিতে থাকেন। কয়েক মাস আগে রাজস্থানের বারমের জেলার এক আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে কথাবার্তা বাড়ে, তৈরি হয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। অভিযোগ, প্রেমের অভিনয়ের আড়ালে প্রিয়াঙ্কা ওই আইনজীবীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটান এবং সেই সময় গোপনে ভিডিও রেকর্ড করেন। শুরুতে বিষয়টি বুঝতেই পারেননি ওই আইনজীবী।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন পরই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ওই ভিডিও দেখিয়ে আইনজীবীকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। দাবি করা হয় বিপুল অঙ্কের টাকা—মোট ৪০ লক্ষ টাকা। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার পাশাপাশি, মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মানসিক চাপে পড়ে পড়েন ওই আইনজীবী। প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে ভয় পেলেও, ক্রমাগত হুমকিতে তাঁর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আইনজীবীর অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কার কথায় তিনি প্রথমে রাজস্থানের বারমেরেই বাসিন্দা কমল সিং নামে এক যুবকের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। তবে তাতেও থামেনি ব্ল্যাকমেল। বারবার আরও টাকা দাবি করা হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আর উপায় না দেখে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ Bangladeshi Hindus Protest: খোকন দাস খু*নে রাজপথে প্রতিবাদ! কট্টরপন্থীদের অত্যাচারে দমে যাননি বাংলাদেশি হিন্দুরা!
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, তাঁর এক বন্ধুকেও আটক করা হয়েছে, যিনি এই ঘটনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট কত টাকা আদায় করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভিডিও রেকর্ডিং ও ব্ল্যাকমেলের পুরো চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আপাতত প্রিয়াঙ্কাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঘটনায় নতুন করে সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধের ভয়াবহ দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।





