শিশমহল বিতর্কে মোদীর আক্রমণ, কেজরীকে একের পর এক খোঁচা

রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একে অপরকে আক্রমণ করা এখন আর নতুন কিছু নয়। তবে মাঝে মাঝে কিছু বিতর্কের মধ্যে এমন বিষয় উঠে আসে, যা জনমানসে একটি বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে। সম্প্রতি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সংস্কারের একটি বিতর্ক আবারও রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এইবার, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, যখন দিল্লির জনগণ করোনার মোকাবিলায় লড়াই করছে, তখন দিল্লির সরকার ব্যস্ত ছিল বিলাসবহুল সরকারি বাসভবন সংস্কারে।

বিজেপি এবং আম আদমি পার্টির (আপ) মধ্যে এই বিতর্ক নতুন নয়। কেজরী সরকারের আমলে ২০২০-২২ সালের মধ্যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সংস্কার করা হয়, যার জন্য খরচ হয়েছিল ৩৩ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে শুধু পর্দার জন্য খরচ হয়েছে ৯৬ লক্ষ টাকা, যা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রান্নাঘরের জিনিসপত্রে খরচ হয়েছে ৩৯ লক্ষ টাকা, এবং রেশমের কার্পেটের জন্য ১৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ ছাড়াও টিভি কনসোলের জন্য খরচ করা হয়েছে ২০ লক্ষেরও বেশি টাকা।

বিজেপি এবং মোদীর দল আবারও এই সংস্কারকে ‘শিশমহল’ বলে উল্লেখ করেছে এবং কেজরী সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছে। মোদী বলেছেন, “করোনা মহামারীর সময় যখন দিল্লির মানুষ অক্সিজেনের জন্য হাহাকার করছিল, তখন আপ সরকার ‘শিশমহল’ নিয়ে ব্যস্ত ছিল।” মোদী আরও বলেন, এই ধরনের বিলাসিতা সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করে করা হয়েছে, যা একেবারে অগ্রহণযোগ্য। তাঁর মতে, এটি জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।

এদিকে, কেজরীওয়ালের দল এই অভিযোগকে তীব্রভাবে খণ্ডন করেছে এবং দাবি করেছে যে এই সংস্কার কোনওভাবেই অপ্রয়োজনীয় নয়। তাঁদের দাবি, সরকারি বাসভবন সংস্কারের ফলে কর্মক্ষেত্রের সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বাসভবনে কর্মীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে। তবে, বিজেপির পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হয়েছে যে কেজরী নিজের ‘শিশমহল’-এ বিলাসিতা করেছেন, যা রাজনীতির দুনিয়ায় এক নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ অবিবাহিত যুগলদের আর ঠাঁই দেবে না OYO! হোটেলে থাকতে হলে দেখাতে হবে প্রেমের প্রমাণ!

এখন দিল্লির সামনে আসছে বিধানসভা নির্বাচন, আর সেখানে এই বিতর্ককে বিজেপি আপের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই বিতর্ক নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য আসতে শুরু করেছে। কেজরীওয়ালের সরকারি বাসভবন সংস্কারের এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র দিল্লির রাজনীতিতে নয়, বরং দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

RELATED Articles