আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। একটি পোস্টই যখন কাঁপিয়ে দেয় গোটা দুই দেশের সম্পর্কের ভিত, তখন বোঝা যায় তার প্রভাব কতটা ভয়ংকর হতে পারে। সম্প্রতি ঠিক এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হল ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। ফেসবুকের একটি পোস্ট ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল দুই দেশের রাজনৈতিক মহল, সুর চড়ল কূটনৈতিক মহলেও। সাধারণ মানুষের মধ্যেও জন্ম নিল প্রশ্ন—এটা কি কেবল একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার উস্কানি, না কি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বিপজ্জনক উদ্দেশ্য?
ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি নিয়ে বহু সময়ই আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা মহলে চর্চা হয়। কিন্তু এবার সেই সাতটি রাজ্যকে কেন্দ্র করেই তৈরি হল প্রবল উত্তেজনা। যেখানে বাংলাদেশের এক প্রাক্তন সেনাকর্তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সরাসরি ভারতের সাতটি রাজ্য দখলের হুমকি দেওয়া হল! সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—এই বক্তব্য কি শুধুই উসকানি? না কি এটি একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস?
বাংলাদেশ রাইফেলের (বর্তমানে বিজিবি) প্রাক্তন ডিজি তথা বর্তমান ইনডিপেনডেন্ট এনকোয়ারি কমিশনের চেয়ারপারসন আলম ফজলুর রহমান সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “যদি ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করে, তবে বাংলাদেশের উচিত হবে ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য দখল করে নেওয়া।” তিনি আরও জানান, “এই উদ্দেশ্যে চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া উচিত।” শুধুমাত্র তাই নয়, পহেলগাঁও হামলা নিয়ে তিনি দাবি করেন, “মোদী সরকার নিজেরাই হামলা ঘটিয়ে পাকিস্তানের উপর দোষ চাপিয়ে যুদ্ধ চায়।” এই ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ সরকার। ঢোঁক গিলে বিবৃতি জারি করে বাংলাদেশ সরকারের প্রেস সেক্রেটারি টু চিফ অ্যাডভাইজার শফিকুল আলম স্পষ্টভাবে জানান, “আলম ফজলুর রহমানের মন্তব্য বাংলাদেশ সরকারের মত নয়, এটি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মত।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যেমন নিজের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে, তেমনই অন্যান্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেও সম্মান করে এবং একই সম্মান প্রত্যাশা করে। এই বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, সরকারের পক্ষ থেকে ওই উসকানিমূলক পোস্টকে কোনওভাবেই সমর্থন করা হচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ India : অর্থনৈতিক আঘাতে পাকিস্তান কোণঠাসা! IMF ও FATF ফ্রন্টে সক্রিয় ভারতের সাহসী কৌশল!
ভারতের কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও ভারত সরকার এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু বলেনি, তবে প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন একটি মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে। পাশাপাশি, এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলেও মত বিশ্লেষকদের। বহুজনের মতে, এমন মন্তব্য যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে তবে তা দু’দেশের মধ্যে অহেতুক উত্তেজনা তৈরি করবে। ফলে বাংলাদেশের সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।





