India : অর্থনৈতিক আঘাতে পাকিস্তান কোণঠাসা! IMF ও FATF ফ্রন্টে সক্রিয় ভারতের সাহসী কৌশল!

সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকতেই পারে। কিন্তু যখন সেই সম্পর্কে একের পর এক সংঘর্ষের রেশ জমে ওঠে, তখন আর তা শুধুই দ্বিপাক্ষিক বিরোধ থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে এক ধরনের কৌশলগত লড়াই। সম্প্রতি ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ভারতের অবস্থান এবার কতটা কড়া হতে চলেছে?

সাধারণ নাগরিকদের ভাবনায় এখন উঠে আসছে—আর কতদিন এই হামলার শিকার হবে নিরীহ মানুষ? ভারত কি এবার শুধু বিবৃতি দিয়ে থেমে যাবে, নাকি বাস্তব কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে? ভারতের আগের কিছু সিদ্ধান্ত যেমন সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখা বা আকাশসীমা বন্ধের মতো ঘোষণাই প্রমাণ দেয় যে সরকার এবার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রভাবশালী রণকৌশলের পথে হাঁটছে। আর এবার মনে করা হচ্ছে, তারই একটি পরবর্তী ধাপ শুরু হতে চলেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের তরফে এবার আরও দুটি বড় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। প্রথমত, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর ধূসর তালিকায় পাকিস্তানকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা। যদিও এই তথ্যের পুরোটা এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে ভারতের প্রয়োজন FATF-এর অন্যান্য সদস্য দেশগুলির সমর্থন। FATF-এর প্লেনারি বছরে তিনবার হয়—ফেব্রুয়ারি, জুন এবং অক্টোবরে। রিপোর্ট বলছে, ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হবে, পাকিস্তান আবারও সন্ত্রাসবাদে অর্থের অপব্যবহার করছে। এর ফলে আইএমএফের কাছে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পাবে এবং ধূসর তালিকায় নাম উঠলে পাকিস্তানে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও মূলধন প্রবাহে ধাক্কা লাগবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে তাদের জন্য।

আরও পড়ুনঃ Madhyamik result 2025 : ৬৯৬ নম্বর পেয়ে প্রথম আদৃত সরকার, ছাত্রীদের মধ্যে সেরা ঈশানী, একনজরে দেখুন মেধাতালিকার সেরা ৬৬ জনের নাম!

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুনে পাকিস্তান FATF-এর ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সেই অবস্থান থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল ২০২২ সালের অক্টোবরে। ভারতের গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই তালিকাভুক্তির ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবৈধ অর্থপ্রবাহ অনেকটাই কমেছিল। যদিও পাকিস্তান FATF-এর সরাসরি সদস্য নয়, তারা এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের (APG) অংশ। অপরদিকে, ভারত FATF এবং APG—দুই সংস্থারই সদস্য। এবার পাকিস্তানকে ফের FATF তালিকায় ফেরানোর এই কূটনৈতিক চাল সত্যিই কার্যকর হয় কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles