Kolkata: দুপুরে বিস্ফোরণ, সন্ধ্যায় দাউদাউ আগুন! চারদিনে চার অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্কের শহর কলকাতা!

শুক্রবার দুপুরটা ছিল একেবারে অন্য দিনের মতোই। শহরের কেউ অফিসে, কেউ স্কুলে, কেউ বা দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেউই ভাবেননি, আচমকাই শহরের বুক কাঁপিয়ে ফের থাবা বসাবে আগুন। হঠাৎ করে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আকাশের দিকে উঠে যেতে দেখা গেল ঘন কালো ধোঁয়া। দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছিল, কিছু একটা ভয়াবহ ঘটছে। একের পর এক আগুন লাগার ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।

টানা চারদিনে শহরের চারপ্রান্তে চারটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই নাগরিকদের মনে প্রশ্ন—এই শহর কতটা সুরক্ষিত? মঙ্গলবার রাতে মেছুয়া বাজারের হোটেলে আগুন লেগে প্রাণ গিয়েছে ১৫ জনের। বৃহস্পতিবার লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়ি ও চিনারপার্কের একটি রেস্তরাঁয় অগ্নিকাণ্ড। এখন আবার শুক্রবার দুপুরে সল্টলেকে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, অফিসপাড়ায় কাজ করা মানুষজন দিশেহারা।

দুপুর ২টো নাগাদ হঠাৎ টেকনোপলিসের কাছাকাছি একটি রাসায়নিক ও ফ্লেক্স তৈরির কারখানা থেকে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। আশপাশের মানুষ প্রথমে কয়েকটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে কারখানা চত্বর ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে কারখানার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যেতে থাকে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের ৮টি ইঞ্জিন। ভিতরে ঢোকার রাস্তা না থাকায় পাঁচিল টপকে কারখানার মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা করেন দমকলকর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলছে আগুন নেভানোর কাজ। ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। তিনি জানান, “আমরা সবরকম চেষ্টা করছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। এখনো পর্যন্ত ভিতরে কেউ আটকে নেই বলেই জানা গিয়েছে।” তবে, জনবহুল এলাকায় এমন একটি কারখানা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ ‘৭ রাজ্য দখল করো’, প্রাক্তন ডিজি-র হুঁশিয়ারি! ঢাকাকে বাঁচাতে ব্যাখ্যায় ব্যস্ত ইউনূস সরকার!

চারদিনে চার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক কর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, শহরের সব কারখানায় অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে। পাশাপাশি, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে যে সব নিয়ম মানা উচিত, তা সব জায়গায় মানা হচ্ছে কিনা, তা দেখারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাগরিকদের একটাই অনুরোধ—অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, না হলে এই শহরের ভবিষ্যৎ ধোঁয়ার আড়ালেই থেকে যাবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles