গত বুধবার ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে ভারতে পাবজি (PUBG) সহ ১১৮ টি চাইনিজ অ্যাপ ব্যান করেছে। এর আগে টিকটিক (Tiktok) সহ ৫৯টি চাইনিজ অ্যাপ ব্যান করা হয়েছিল। এছাড়াও বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন চাইনিজ অ্যাপের লাইট ভার্সন। এর ফলে ভারতের বাজারে চীনের (China) বাণিজ্যিক অবস্থা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার ফলে চীনকে এখন রবীন্দ্রনাথের নাম নিতে হচ্ছে! বাধ্য হয়ে লাল ফৌজের দেশ বলছে, “আমরা তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (Rabindranath Tagore) ভয় পাই না, তোমরা কেন পাবজিকে ভয় পাচ্ছ?” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে পাবজির এই ভয়ঙ্কর তুলনাতে হেসে খুন নেটিজেনরা।
চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চেনিং এদিন বলেছেন, ”চীনে তো রবীন্দ্রনাথের কবিতাও বেশ জনপ্রিয়। আমরা কখনও মনে করিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা চীনা সংস্কৃতির উপর আঘাত। তা হলে ভারত কেন পাবজি গেম নিয়ে এত ভয় পাচ্ছে। এছাড়াও আমাদের দেশে ভারতীয় যোগাও খুব জনপ্রিয়। আমরা তো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি না।”
চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের এহেন অদ্ভুত যুক্তি শুনে হতবাক সকলে। ১৯২৪ সালে প্রথমবার চীনে গিয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যদিও সেই সময় কমিউনিস্ট’ চীনা যুব সমাজ তাকে মেনে নেয়নি। পরবর্তীকালে তার কবিতা চীনাবাসীদের যথেষ্ট আকৃষ্ট করে এবং চীন বর্তমানে প্রকারান্তরে মেনে নিল যে রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব কতখানি।
এর আগে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র গাও ফেং ভারতের পাবজিসহ ১১৮টি অ্যাপস ব্যান-এর সিদ্ধান্তকে ভুল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল আমেরিকা চীনের বিরুদ্ধে যে ‘ক্লিন নেটওয়ার্ক’ অভিযান শুরু করেছে তাতে অংশগ্রহণ করছে ভারত যা অন্যায়। তথ্য সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে চীনা অ্যাপগুলিকে ব্যান করা হলেও আমেরিকাও যে তথ্য সুরক্ষার দিক থেকে খুব একটা সুবিধার নয় তা ভারতকে বারংবার বোঝাতে চেয়েছে চীন। যদিও তাতে চিঁড়ে ভেজেনি নিজের কৃতকর্মের ফল এখন ভুগতে হচ্ছে এই দেশকে।





