দেশ যখন একদিকে চরম আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন রাজনীতির মঞ্চে নয়া বিতর্কের আগুন। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন—আমাদের শত্রু রাষ্ট্রের বন্ধুদের সঙ্গে কি দেশের কোনও রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠতা রাখা উচিত? বিশেষ করে যখন সেই দেশ পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রের পাশেই দাঁড়াচ্ছে। এই প্রশ্ন এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। জনসাধারণের একটা বড় অংশ আজও বিশ্বাস করে, জাতীয় স্বার্থে কোনও আপস হওয়া উচিত নয়।
তুরস্ক একাধিকবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, বিশেষত কাশ্মীর ইস্যুতে। এমন অবস্থায় সেই দেশের সঙ্গে কোনও ভারতীয় রাজনৈতিক দলের সরাসরি যোগাযোগ বা অফিস খোলা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন সেই দেশকেই বেছে নেওয়া হল, যেখানে ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলে সে দেশের নেতৃত্ব? দেশভক্তির নামে যখন রাজনীতিকরা ভাষণ দেন, তখন এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের চোখ এড়ায় না।
২০১৯ সালের শেষের দিকে ইস্তানবুলে ‘ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেস’-এর অফিস খোলার খবর সামনে আসে। মোহাম্মদ ইউসুফ খান নামক এক ব্যক্তি ছিলেন এই উদ্যোগের মুখ্য সংগঠক। এই পদক্ষেপের সময়কাল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ ঠিক তার কিছুদিন আগেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ান। কাকতালীয় হলেও বিষয়টি সন্দেহজনক—সেই সময়েই কেন এই অফিস খোলা হল?
যখন ভারতের পক্ষ থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—চুক্তি বাতিল থেকে শুরু করে কূটনৈতিক বার্তা, তখনই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা রাজনৈতিকভাবে নীতিগত প্রশ্ন তোলে। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস অতীতেও ২০০৮ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে একটি MoU স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তি নিয়েও আজ পর্যন্ত দলের তরফে কোনও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ Weather update : শুক্রবার পর্যন্ত বজ্র-সহ বৃষ্টি, কোন জেলাগুলিতে প্রভাব পড়বে? জানুন বিস্তারিত
তুরস্কে কংগ্রেসের অফিস খোলা এবং চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তি—দুটো মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নীতিনৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জনগণের মনে তৈরি হয়েছে সন্দেহ—শত্রুদের বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে কংগ্রেস ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছে? যখন সরকারের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী বলে কটাক্ষ করা হয়, তখন নিজের দলের বিদেশনীতি নিয়ে কংগ্রেস কী জবাব দেবে? জনগণ এখন একটাই কথা বলছে—”শত্রুর বন্ধুও আমাদের শত্রু”—এই কথাটি কি কংগ্রেস বুঝতে পারছে?





