গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল রাজ্যবাসীর। রাস্তায় বেরোলেই মাথার ওপর ঝলসে দিচ্ছিল রোদের তেজ। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল। তবে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টিতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাজ্য। অনেকেই জানিয়েছেন, রাতের দিকে ঘুমও হয়েছে অনেক বেশি আরামদায়ক। তাপপ্রবাহের ধাক্কা সামলাতে এই একফোঁটা জল যেন আশীর্বাদের মতোই এসেছে মানুষের জীবনে।
তবে আবহাওয়ার এই রূপান্তরের ফলে যেমন স্বস্তি, তেমনই আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ কোথাও কোথাও অল্প বৃষ্টিতে জল জমে যাচ্ছে, কোথাও আবার বাজ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে শহরবাসী চিন্তায়—এই বৃষ্টি স্থায়ী তো? নাকি আরও বড় কোনও দুর্যোগের পূর্বাভাস? পরিবেশপ্রেমীদের মতে, একনাগাড়ে গরমের পরে এই ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক, তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে প্রতিটি নাগরিককেই।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২-৩ দিন দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহর কলকাতা সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাগুলিতে দুপুরের পর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং কোথাও কোথাও হতে পারে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। শুক্রবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। অর্থাৎ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রাজ্যবাসীকে থাকতে হবে সতর্ক।
আবহাওয়াবিদদের মতে, হরিয়ানা থেকে উত্তর-পূর্ব অসম পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর বাংলাদেশের উপরে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা ও অসমে একাধিক ঘূর্ণাবর্তও সক্রিয়। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত এখন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সরছে, যা দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও বাড়াচ্ছে। ফলে চলতি সপ্তাহ জুড়ে বৃষ্টির ছোঁয়ায় ভিজতে পারে গোটা রাজ্য।
আরও পড়ুনঃ Astrology:ভগবান শিবের প্রিয় এই ৪ রাশি, জীবনের সব বাধা দূর করেন মহাদেব নিজে!
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বহু অঞ্চলে গ্রীষ্মের দাবদাহে খানিকটা স্বস্তি মিলবে। তবে হাওয়া অফিস সতর্ক করে বলেছে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকতে, এবং জলাবদ্ধতা কিংবা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে। অর্থাৎ স্বস্তির বৃষ্টি সঙ্গে নিয়ে এসেছে নতুন করে সতর্কতার বার্তাও।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার