সকালটা আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু লাহোরের আকাশে হঠাৎ করেই এক ভয়াবহ পরিবর্তন দেখা দেয়। সূর্য ওঠার আগেই শহরের বুক কাঁপিয়ে বাজতে থাকে বিপদের সাইরেন। মানুষের চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ, চারপাশে শুধু দৌড়াদৌড়ি আর আতঙ্ক। কে জানতো, সাধারণ এক সকাল আচমকাই পরিণত হবে চরম এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায়!
সম্প্রতি সীমান্তে চলা উত্তেজনার জেরে সারা দেশ জুড়েই টান টান উদ্বেগ। পহেলগাঁওয়ে ২৬ জওয়ানের প্রাণহানির পর ভারত যে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা একপ্রকার প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু সেই প্রতিক্রিয়ার রেশ এভাবে দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে এসে পড়বে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। পাকিস্তানের বুকে এই বিস্ফোরণ যেন স্পষ্ট করে দিল – যুদ্ধ হয়তো এখন শুধুই সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই।
স্থানীয় সংবাদসূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাহোরের গোপাল নগর ও নাসিরাবাদ এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরবেলা পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শহরের অন্যতম অভিজাত এই অঞ্চলগুলি মূলত ব্যবসায়িক ও সেনা সংযোগের জন্য পরিচিত। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন, কেউ কেউ আবার সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ শুরু করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ড্রোন মারফত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। মাত্র কয়েক ফুট উচ্চতা থেকে ফেলা হয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য। বিস্ফোরণের পর এলাকাজুড়ে ধোঁয়ার ঘন চাদর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ড্রোনটিকে পরে গুলি করে নামানো হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। ঘটনা যতটা না ক্ষয়ক্ষতির, তার চেয়েও বেশি বার্তা দেওয়ার মতো — আর সেটাই এখন সবচেয়ে চিন্তার বিষয়।
আরও পড়ুনঃ Weather update : গরমে হাঁসফাঁস রাজ্যবাসী, দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের থাবা, উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির ইঙ্গিত!
ভারতীয় সেনার সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহওয়ালপুরে জইশ, মুরাক্কায় লস্কর ও হিজবুলের ঘাঁটি ধ্বংস হয় এই অভিযানে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নজরদারিতেই সম্পন্ন হয় গোটা অপারেশন। বিদেশসচিব ও সেনার তরফে জানানো হয়, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেই নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। আর ঠিক তার পরদিনই লাহোরে এই বিস্ফোরণ, যা নিছক কাকতালীয় নয় বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। যুদ্ধ কি এবার শহরের বুকে নামছে? প্রশ্নটা এখন শুধু পাকিস্তানের নয়, গোটা বিশ্বের।





