ভারতের সাধারণ মানুষ আজ আর শুধু সীমান্তের গর্জন শুনে চুপ করে থাকেন না। প্রতিবার যখন নিরীহ মানুষের উপর হামলা হয়, তখন গোটা দেশের বুক ফেটে চিৎকার ওঠে—“আর নয়!” কাশ্মীরের শান্ত প্রকৃতি, পাহাড়-জল-সবুজ ঘেরা ভূস্বর্গে হঠাৎ হানা দেয় জঙ্গিরা। যারা এসেছে শুধুই মৃত্যু বয়ে আনতে। হানাদারদের গুলিতে যখন পর্যটকদের প্রাণ যায়, তখন একটাই প্রশ্ন উঠে আসে—আর কত? আর কদিন সহ্য করবে ভারত?
জঙ্গি হামলা যে শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা নয়, তা আজ প্রমাণিত। যে সন্ত্রাসবাদ কাশ্মীরে পর্যটকদের গুলি করে, সেই একই সন্ত্রাসবাদ কাল লন্ডন বা নিউ ইয়র্কেও হানা দিতে পারে। ফলে, ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়াটাই সময়ের দাবি। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে গর্জে উঠলেন এক ব্রিটিশ সাংসদ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হল আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক প্রাণ হারান। জঙ্গিরা বেছে বেছে পরিচয় দেখে গুলি চালায়। হাউস অব কমন্সে দাঁড়িয়ে প্রীতি প্যাটেল বলেন, “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মাথায় গুলি করা হয়েছিল। এমন বর্বরতা সভ্য সমাজে চলতে পারে না।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, “এই ঘটনা কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।”
ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ প্রীতি প্যাটেল পাকিস্তানকে আক্রমণ করে বলেন, “এই সেই দেশ যেখানে ওসামা বিন লাদেন লুকিয়েছিলেন। সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া পাকিস্তানের পুরনো ইতিহাস।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।” অপারেশন সিঁদুরের নাম না করলেও স্পষ্ট করে দেন, ভারত যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা ন্যায়সঙ্গত। তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আর্জি জানান, ভারতকে আরও শক্তিশালী ভাবে পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
আরও পড়ুনঃ India pakistan war : পাকিস্তানের বুকে পরপর বিস্ফোরণ! ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরদিনই লাহোর কাঁপাল বিস্ফোরণ! ড্রোন হানার জেরে আতঙ্ক ছড়াল এলাকায় !
শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সাংসদ স্পষ্ট বার্তা দেন—ভারতের পাশে থাকাই আজ সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “যে সব জঙ্গি সংগঠন ভারতের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার অধিকার ভারতের আছে।” যদিও তিনি চান ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক, তবুও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপস করা যাবে না। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের যে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রিটেনের এই বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানকে এক হাত নিয়ে লাদেনের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিশ্ব দরবারে প্রীতি প্যাটেল দেখিয়ে দিলেন—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত একা নয়।





