মে মাস পড়তেই গরমের তেজ যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। সকাল নামতেই রোদের প্রখরতা জানান দিচ্ছে কী অপেক্ষা করছে দিনের বাকি অংশে। শহরের রাস্তায় নেমে যাত্রীদের চোখেমুখে একরাশ ক্লান্তি—রোদ আর ঘামে ভিজে শরীর যেন হাঁপিয়ে উঠছে মুহূর্তে মুহূর্তে। পানীয় জলের দোকানগুলিতে লাইন, কুলফি-আইসক্রিমের চাহিদা দ্বিগুণ। তবে এই চাহিদার মাঝেই অসহ্য গরমে পড়ছে বাড়তি চাপ, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও যাঁরা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তাঁদের উপর।
গত সপ্তাহ পর্যন্ত যেটুকু স্বস্তি ছিল, তা এক মুহূর্তেই যেন উধাও হয়ে গেছে। সকালবেলাতেই যখন পারদ ছুঁয়ে ফেলছে ৩৫ ডিগ্রি, তখন দুপুরের কল্পনাই যেন গায়ে ঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছে। শহরের স্কুল-কলেজে পড়ুয়া থেকে শুরু করে অফিসগামী মানুষ—সবাই ভুগছেন এক রকমের ক্লান্তি আর মাথাব্যথার সমস্যায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি এখনও বেশ কয়েকদিন চলতে পারে। এমনকি রাজ্যের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ছয়টি জেলায় আগামী চার দিন তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি চলবে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান—এই পাঁচ জেলায় বৃহস্পতিবার থেকেই লাগাতার তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এরসঙ্গে শনিবার ও রবিবার তালিকায় যোগ দেবে বীরভূম। কলকাতায় বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি, যা আগামী দু’দিনে আরও ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে রোদ এড়িয়ে চলার ও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তাপপ্রবাহের সতর্কতা না থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যে রোদের তাপ যেন আরও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। দুপুর ১২টা থেকে ৪টার মধ্যে বাড়ির বাইরে থাকলে মাথা ঘোরা, হিট স্ট্রোক, ত্বকে জ্বালা—এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। এই সময়ে বেশি করে জল খাওয়া, হালকা খাবার খাওয়া এবং সরাসরি রোদের সংস্পর্শ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সর্বত্র।
আরও পড়ুনঃ India pakistan war : চোখের সামনে স্বামীকে খুন, ‘কলমা’ না পড়ার শাস্তি হয়েছিল মৃত্যু! ‘অপারেশন সিঁদুরে’ খুশি জেনিফার, তবু প্রশ্ন রয়েই গেল কোথায় সেই চার জন?
এই ভয়াবহ গরমের মাঝেই আশার আলো দেখাচ্ছে হাওয়া অফিস। আগামী সোমবার থেকে বুধবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় আগামী সাতদিন ধরে চলবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। তবে মালদহ জেলায় শনিবার ও রবিবার তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা থাকছে। গরম আর দুর্যোগের এই যুগলবন্দীতে রাজ্যের অধিকাংশ মানুষের নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা যেন আর নেই।





