ঘড়ির কাঁটা তখন সময় জানাচ্ছে সকাল ৮ টা বেজে ৪৫ মিনিট। লাদাখ থেকে গ্রাউন্ড জিরো নিয়ে ততক্ষণ সেনা প্রধান মনোজ মুকুন্দ নরভানের কাছে ফোন চলে এসেছে। তাঁকে লাদাখ থেকে জানানো হয়, ১৫ই জুন যেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছে গালওয়ানে, সেই অঞ্চল থেকে একটু একটু করে সরছে চৈনিকরা। এরপরেই সেনা প্রধানের ফোন যায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে ।
অতঃপর মাঠে নামেন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। দিল্লির কাছে লাদাখের গ্রাউন্ড রিপোর্ট আসতেই, শুরু হয়ে যায় চীন-ভারত কূটনৈতিক স্তরের আলোচনা। দুই দেশের মধ্যে ভিডিও কলে হয় আলোচনা। কথাবার্তা কিছুটা এগোতেই হাল ধরেন অজিত।
ভারতের দুঁদে এই কূটনীতিবিদের সঙ্গে তখন চীনের প্রান্ত থেকে ভিডিও কল-এ বসেন বিদেশমন্ত্রী ওয়ং ই। প্রথম থেকেই লাদাখ জটকে শুরু করেছে,তা নিয়ে ঝামেলার পরিবেশ তৈরি করে চীন। দোভালও নাছোড়বান্দা। তিনি স্পষ্ট করেন ভারতের অবস্থান। সাফ বার্তায় প্রতিবেশীকে জানিয়ে দেন লাদাখে পেট্রোলিং পয়েন্টে ভারতীয় সেনার নজরদারির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে চীনকে। তার জেরেই প্রকৃত লাইন অফ কন্ট্রোলে ১,৫৯৭ কিলোমিটার এলাকায় শান্তি রক্ষা হতে পারে। এরপরই ধীরে ধীরে গলে চীনা বরফ।
গতকাল দোভাল-চালে ভারত চীন সীমান্তের সংঘাতে নৈতিক জয় ছিনিয়ে নিতে পেরেছে বলে অনেকের মত। এদিকে, ভারত সাফ জানিয়েছে ২ কিলোমিটার পিছিয়ে যাওয়ার শর্ত মানা হলেও, লাদাখ সীমান্তে নির্মাণের কাজ থেকে ভারতীয় সেনা কিছুতেই পিছু হটবে না। ফলে লাদাখ সীমান্ত থেকে চীন আতঙ্ক এক্ষুনি কমছে না।





