বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ‘বিখ্যাত’ তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য। অসংখ্যবার বেফাঁস মন্তব্য করলেও তাঁকে ক্ষমা করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবার ফের বীরভূমের তৃণমূল শিক্ষক সমিতির সভায় স্বমহিমায় পাওয়া গেল অনুব্রতকে।
এবার তাঁর কাছে ধমক খেলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার। যদিও এর আগে পুলিশকে নকুলদানা খাওয়াবার তত্ত্ব দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন অনুব্রত। সেখানে ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারকে বকাবকি করা তো অনেক নগণ্য বিষয়, বলছেন নিন্দুকরা।
বীরভূমে তৃণমূলের শিক্ষক সমিতির অনুষ্ঠানে হঠাৎই বিদ্যুৎ চলে যায়। আর তখনই ঘেমে নেয়ে একশা অনুব্রত বাবু মেজাজ সপ্তমে চড়তে থাকে। ভয়ে সিঁটিয়ে যান তৃণমূলের শিক্ষা সেলের নেতারা। রীতিমতো রাগতস্বরে অনুব্রত বাবু উপস্থিত শিক্ষক সদস্যদের জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেন যে, দিনে কতবার করে এরকম বিদ্যুৎ যায়?

শিক্ষকদের উত্তর আসে চার-পাঁচবার। শিক্ষকদের এই উত্তর শুনে আগুনে যেন ঘি পড়ে। রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে অনুব্রত নির্দেশ দেন ডব্লিউবিএসইবি-এর ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারকে ফোনে ধরার জন্য। ফোনে ইঞ্জিনিয়ারকে ধরতেই অনুব্রত ফোন নিজের কানে নিয়ে উল্টোদিকে ইঞ্জিনিয়ারের ওপর রীতিমত চোটপাট করতে শুরু করেন। চেয়ে নেন ফোনটি | বলেন, “কেন মানব বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এতবার করে ? দিনে পাঁচ-ছয়বার বিদ্যুৎ না থাকা একেবারেই মানব না |”
সেই ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার তাঁকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও কোনও কথাই শুনতে চাননা তিনি । হুমকির সুরে একই কথা বলতে থাকেন তিনি । এদিকে তাঁর এই কার্যকলাপ যে চিত্র সাংবাদিকদের ক্যামেরাবন্দি হয়ে গিয়েছে তা তিনি টেরও পাননি।
এর পর তিনি সভা শেষ করেন। আগামী বিধানসভা ভোটে যেন শিক্ষকরা তাঁর দল ও দলনেত্রীকে ভুল না বোঝেন সেই কথাও বলেন অনুব্রত। তবে সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার কে হুমকি দেওয়ার ভিডিও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া এটাই প্রমাণিত হয় যে অনুব্রত আছেন অনুব্রততেই!





