ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেকার সম্পর্ক এখনও ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতেই ধর্মীয় পর্যটনকে কেন্দ্র করে পাক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক দিল্লি। পাকিস্তানে ভারতীয় পুণ্যার্থীদের জন্য যাতে আরও বেশি ধর্মীয় স্থান খুলে দেওয়া হয়, এমন প্রস্তাবই দিল মোদী সরকার।
আবার এও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এও জানানো হল যে ভারতেও পাক পুণ্যার্থীদের জন্য আরও তীর্থস্থান খুলে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ বিমান চলাচল নিয়েও পাক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ভারত, গত শুক্রবার বিদেশমন্ত্রক সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
করোনা পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন শিল্পে আরও উন্নতির জন্য এই উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের সড়কপথ ব্যবহার করে যাতে আফগানিস্তানে গম, ত্রাণ ও খাবার পাঠানো যায়, সেই লক্ষ্যও রয়েছে ভারত সরকারের।
ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির পর থেকেই ভারতকে এই সড়কপথ ব্যবহার করতে দেয় না পাকিস্তান। কিন্তু ১৯৭৪-এর যৌথ প্রোটোকল অর্থাৎ দু’দেশের নাগরিকদের তীর্থযাত্রা নিয়ে কথাবার্তার সময় সড়কপথ ফের ব্যবহার করার অনুমতিও পাকিস্তানের থেকে ভারত এবার আদায় করতে পারবে এমনটাই আশা করছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী।
পাক সরকারের অধীনস্থ পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিলের তরফে ভারতের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক মাসে করাচি ও লাহোর থেকে ১৭০ পুণ্যার্থীকে নিয়ে একটি বিমান ভারতের বিভিন্ন পুণ্যস্থানগুলিতে সরাসরি পৌঁছতে চায়। তার অনুমতি দিক ভারত সরকার। এরপরই দিল্লির তরফে দু’দেশের পুণ্যার্থীদের জন্যই বিশেষ বিমান চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেক বছরই নানান হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ পুণ্য অর্জন করার জন্য ভারতের নানান তীর্থস্থানগুলিতে আসেন। আবার এদেশ থেকেও হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ পাকিস্তানে যান নানান মন্দির, মসজিদ ও গুরুদ্বার দর্শনের জন্য।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তানের সরকারি আধিকারিকরা এই তীর্থযাত্রার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনায় বসবে। এই দু’দেশের পুণ্যার্থীরা যাতে ২০টি তীর্থস্থানে ভ্রমণের সুযোগ পান, তা নিয়েও হবে আলোচনা।





