ফের বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ। দিনহাটায় তৃণমূলের এক কর্মীসভা থেকে করা তাঁর এক বক্তব্যকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষও শানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।
গতকাল, রবিবার দিনহাটার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের একটি কর্মীসভা ছিল। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন উদয়ন গুহ। আসন্ন পুরসভার নির্বাচন নিয়েই আলোচনা চলছিল এদিন। এই সভাতেই উদয়ন গুহ বলেন যে সরকারি সাহায্য নিয়ে যদি ভোট না দেয় কেউ, তাহলে বাড়ি গিয়ে পিটিয়ে আসা হবে।
এদিনের এই কর্মীসভায় তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার মায়েদের জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার দিয়েছে। মায়েদের তো কিছু বলা যায় না, তবে পুরুষদের জন্য বেসরকারিভাবে পুরসভার নারায়ণের ভান্ডার রয়েছে। নারায়ণ ভান্ডারের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে তাদের জন্য নতুন একটি প্রকল্প চালু করা হবে হবে। তা হল দুয়ারে প্রহার। সেটা যেন মাথায় থাকে”।
এরপরই নিজের এই মন্তব্যের জন্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায় তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশে একথা বলেছেন। সাফাই দিয়ে উদয়ন গুহ বলেন, “আমি আমার কর্মীদের বলেছি। তাছাড়া সেভাবে তো কিছু বলিনি। অনেকেই নারায়ণ ভান্ডারের টাকা নিয়েছে। নারায়ণ ভাণ্ডার বলে সরকারি কোনো প্রকল্প নেই। কিন্তু সরকারি সুযোগ সুবিধা, পুরসভার সুযোগ সুবিধা সবই কর্মীদের দিয়েছি”।
তাঁর সংযোজন, “আমি কর্মীদের বলেছি যাঁরা বছরের পর বছর দলের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, পুরসভার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, পুরভোটের সময় তাঁরা যদি বিশ্বাসঘাতকতা করেন তবে তাঁদের জন্য আরেকটি প্রকল্প চালু হতে পারে, সেটা হচ্ছে দুয়ারে প্রহার। আমি আমার কর্মীদের বলেছি এবং সেটা স্পষ্টও করে দিয়েছিলাম। এর মধ্যে তো বাইরের লোকের কিছু নেই”।
এই বিষয়ে শাসকদলকে তোপ দাগতে কসুর করেনি বিজেপি। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, “এই সহজ, সরল সত্যটা ঠিক তৃণমূলী লাইনে মানুষের সামনে উপস্থিত করার জন্য উদয়ন গুহকে অনেক ধন্যবাদ। এটাই তৃণমূল কংগ্রেস। ১১ বছর রাজত্ব করার পরেও তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হয়ে উঠতে পারেনি, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার হয়ে থেকে গিয়েছে”।
তিনি আরও বলেন, “তারা (তৃণমূল) মনে করে এখানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে কোনও মুখ্যমন্ত্রী নেই, যিনি আছেন, তিনি রাজতন্ত্রের প্রতিভূ হয়ে আছেন। তাই যাঁরা যাঁরাই তাঁর অনুদান নেবেন, কৃপাধন্য হবেন, তাঁদের ভোট দিতে হবে। তাঁদের আনুগত্য দেখাতে হবে। এখানে আনুগত্য-ই প্রথম ও আনুগত্য-ই শেষ। এভাবেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় ভোট হয়েছে। সমস্ত ভোটেই তৃণমূলীরা দরজায় দরজায় গিয়ে বলেন, যদি আমাদের ভোট না দাও, তাহলে সরকারি সমস্ত প্রকল্প থেকে তোমরা বঞ্চিত হবে”।





