পাকিস্তান ‘শান্তিপ্রিয় দেশ’, দাবি করেছিলেন পাক সেনাপ্রধান, সীমান্ত সন্ত্রাসে লাগাম দিন, আয়না দেখালো ভারত

সমগ্র কাশ্মীরের ওপরে অধিকার দাবি করা পাকিস্তানের গলায় হঠাৎই এই ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছিল। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের জম্মু কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ বিশ্ব নন্দিত। আর এবার তা শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল জাভেদ বাজওয়া।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পাক বায়ুসেনার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই কাশ্মীর ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বিষয়টি উঠে আসে। সেখানেই তিনি প্রস্তাব দেন, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আকাঙ্ক্ষা মেনেই বিতর্কের সমাধান করুক দুই দেশ। জেনারেল বাজওয়ার কথায়, ”পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আদর্শকে মেনে চলতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সব দিক দিয়েই শান্তির হাত বাড়ানোর সময় এসেছে। ভারত ও পাকিস্তানের অবশ্যই উচিত শান্তিপূর্ণ ভাবে মর্যাদার সঙ্গে দীর্ঘদিনের জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান করা।”

পাক সেনা প্রধানের এহেন বক্তব্যের পর ই এবার তাকে আয়না দেখালো ভারত। বাজওয়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, সীমান্ত সন্ত্রাসে লাগাম না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সুবিদিত। সন্ত্রাস, হিংস্রতা ও হিংসামুক্ত পিরবেশে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী ভারত। এমন পরিবেশ তৈরি করার দায় পাকিস্তানেরই।’

২০১৯ সালের অগস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়। ভারতের এই পদক্ষেপের জবাবে নয়া দিল্লি থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় পাকিস্তান এবং ভারতীয় হাই কমিশনকেও ইসলামাবাদ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় ইমরান খানের সরকার।

তবে তারও আগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামায় পাক মাটিতে ঘাঁটি গাড়া জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সন্ত্রাস হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হলে জবাবে পাকিস্তানে ঘাঁটি গাড়া সন্ত্রাসবাদী শিবিরে আঘাত হানে ভারতীয় বায়ুসেনা। সংঘর্ষে ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে নামায় পাক বাহিনী।

২০০৮ সালে পাক আশ্রিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার মুম্বই হামলার পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও সদর্থক কূটনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

RELATED Articles