মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইজরায়েল ও ইরানের সংঘর্ষ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। দুই দেশের এই দ্বন্দ্বে একের পর এক সামরিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে তেহরান। সবশেষে ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইজরায়েলের আকাশপথে চালানো হামলা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চারদিক থেকে ধাক্কা খেতে খেতে এবার তেহরানের শীর্ষ স্তরের নেতৃত্বেও নেমে এসেছে রক্তক্ষয়ী ঘাত।
সম্প্রতি ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইরানের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটিতে। গত শুক্রবারের হামলা ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। ইজরায়েল দাবি করেছে, তারা এদিন ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জেরে মৃত্যু হয়েছে ইরান সেনার ‘চিফ অফ স্টাফ’ মহম্মদ বাঘেরি এবং রেভোলিউশনারি গার্ডসের প্রধান হোসেন সালামির। এছাড়াও নিহত হয়েছেন ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ডের প্রধান ও দুই উচ্চপদস্থ সেনা কর্তা। এমনকি, ৯ জন পরমাণু বিজ্ঞানীকেও হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে।
এই ভয়ঙ্কর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আরও বড় ধাক্কা ইরানের সেনা পরিকাঠামোয়। ইজরায়েলের সেনা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বর্তমান ‘যুদ্ধকালীন সেনা প্রধান’ আলি শাদমানির মৃত্যু হয়েছে তাদের সাম্প্রতিক হামলায়। তিনি সেনার ‘চিফ অফ স্টাফ’-এর পদে আসীন হয়েছিলেন মাত্র কিছুদিন আগে, গত ১৩ জুন নিহত গোলাম আলি রশিদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। ক্ষমতায় বসার এত দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু তেহরানের কাছে এক ভয়ানক আঘাত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ জানিয়েছে, ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, শাদমানি হচ্ছেন এযাবৎ ইরানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যাঁকে তারা হত্যা করতে পেরেছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয়, এই শাদমানিই ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ। তবে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ৫০ টন ইলিশে ভর্তি ট্রলার ফিরল, এবার অর্ধেক দামেই মিলবে বাজারে ইলিশ!
ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তাই নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ইজরায়েল। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ ফের মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও জোরে বাজিয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে পরিস্থিতি নিয়ে। এখন দেখার, তেহরান এই মৃত্যুমিছিলের প্রতিক্রিয়ায় কী জবাব দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাক্কা সামলে উঠে ইরান কতটা রণপ্রস্তুত তা নির্ধারণ করবেই এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ।





