মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এসেছে বহুদিন। একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের উত্তাপ, অন্যদিকে আমেরিকার সতর্ক বার্তা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল বিস্ফোরণমুখী। তবে কেউই ভাবতে পারেনি এতটা তাড়াতাড়ি যুদ্ধের ময়দানে নামবে ট্রাম্প প্রশাসন। রবিবার গভীর রাতে হঠাৎই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি। আচমকাই আমেরিকার এই পদক্ষেপে স্তম্ভিত বিশ্ব।
সূত্রের খবর, ইরানের ফোরদো (Fordow), নাতানজ (Natanz) ও ইসফাহান (Isfahan) পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে নিশানা করে একযোগে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বোমারু বিমান বি-২ স্টেলথ (B-2 Stealth bomber)। রাতের অন্ধকারে হানা দেয় এই যুদ্ধবিমান। হঠাৎ এই আক্রমণে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা ইরানজুড়ে। জানা গিয়েছে, হামলার পরিকল্পনা আগেই তৈরি ছিল, আর তা কার্যকর করে দেখাল ট্রাম্প প্রশাসন।
হামলার পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অভিযান সফল হয়েছে এবং মার্কিন বিমানগুলি এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে সরে এসেছে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, “টার্গেট পূরণ হয়েছে। সেনাদের আমি অভিনন্দন জানাই।” পাশাপাশি তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শান্তির পথে না এলে আরও বড় হামলা আসবে।” ফলে ইরান কোন পথে হাঁটে এখন সেটাই দেখার।
এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “প্রথমে শক্তি আসে, তারপর শান্তি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ইতিহাস বদলে দেবে।” অন্যদিকে ইরান সরকারের দাবি, “এই হামলা প্রত্যাশিত ছিল। বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। ফোরদো কেন্দ্রে মাত্র দুটি টানেলে হানা হয়েছে, তাও এন্ট্রি ও এক্সিট রুটে।” তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের দাবি পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Delhi Crime: ভয়ঙ্কর প্রেম ও খুনের ছক! পার্টির ছলে স্বামীকে হত্যা, দেহ ছোড়া হল খাদে — অভিযুক্ত স্ত্রী ও প্রেমিক
এখন প্রশ্ন, ইরান কি পাল্টা জবাব দেবে? নাকি কূটনৈতিক স্তরে মীমাংসার চেষ্টা চলবে? আমেরিকার এই আক্রমণের পর রাশিয়া ও চিনের মতো শক্তিধর দেশগুলি কী অবস্থান নেবে, সেটাও বিশ্বরাজনীতির বড় প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এই পদক্ষেপ ঘিরে। কেউ বলছেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘণ্টাধ্বনি বেজে গিয়েছে। তবে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।





