ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ভারত। এই ঘোষণা আদতে ভারতেরই কূটনৈতিক জয় বলে মনে করা হচ্ছে। মস্কোর সঙ্গে নয়া দিল্লি লাগাতার আলোচনার কারণেই রুশ প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের হয়ে কথা বলেনি। আবার কারোর বিরুদ্ধাচারণও করেনি। প্রথম থেকেই যুদ্ধ নয়, শান্তি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি ঠিক করার প্রস্তাব দেয় ভারত সরকার।
ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা করতেই সে দেশে আটকে পড়েন প্রায় ২০ হাজার ভারতীয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পড়ুয়া। তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ বাড়তে থাকে মোদী সরকারের উপর।
এই প্রেক্ষাপটে মস্কোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করে নয়াদিল্লি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর জেরে মস্কোর তরফে আশ্বাস দেওয়া হয় যে ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়রা চাইলে সেদেশের পূর্ব সীমান্ত পার করে রাশিয়ায় ঢুকতে পারেন। আর সেখান থেকে তাঁদের ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।
নিঃসন্দেহে এটা ভারতের সাফল্যের প্রথম ধাপ ছিল। কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পূর্ব ইউক্রেনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কিন্তু ভারতীয়রা সেখানে সুরক্ষিত ছিলেন।
আজ শনিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। বলা হয় যে এই সময়ের মধ্যে অসামরিক নাগরিক, বিদেশি নাগরিক, মহিলা, শিশু, প্রবীণদের ইউক্রেন থেকে বের করে আনা যাবে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কাজ সহজ হল ভারতের। এবার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভারতীয়দের উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কৃতিত্ব কোনও অংশে কম নয়। তাঁর সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক খুবই ভালো। এই কারণে এর আগে মোদীর দ্বারস্থ হন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত। নয়া দিল্লি রাশিয়ার সঙ্গে কথা বললে যুদ্ধ থেমে যেতে পারে বলে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তা না হলেও, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপের পিছনে রাশিয়ারও নিজের স্বার্থ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। পুতিন ও রাশিয়ার গায়ে ইতিমধ্যেই যুদ্ধবাজের তকমা লেগে গিয়েছে। এই কারণে এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে নিজেদের মানবিক প্রমাণ করতে চাইছে রাশিয়া। ইউক্রেনের কারণেই তাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে, তা বোঝাতে চাইছেন পুতিন, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে এরপর যে আদৌ যুদ্ধ পুরোপুরি থেমে যাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।






