বাংলাদেশ অতীতের গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী জনসাধারণ আগেই হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ পর্যন্ত ঘটনাগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাপ ফেলেছিল। ঠিক সেই ছবিটাই বর্তমানে দেখা যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ নেপালে। দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের চাপে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।
সপ্তাহখানেক ধরে নেপালে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল নেপাল সরকার, যা নিয়ে দেশের ছাত্রযুবরা পথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারায়। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, এবং প্রধানমন্ত্রী ওলি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করলেও চাপে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল নিজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের জন্য অনুরোধ করেন। নিরাপত্তার আশ্বাস নিয়ে ওলি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। শুধু ওলি নয়, তাঁর মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যও বিক্ষোভের মুখে পড়ে যান। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কিছু মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন ধরানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এছাড়া পদত্যাগের পর ওলি দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই হয়ে যেতে পারে তাঁর গন্তব্য। ত্রিভুবন বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে এবং ৩০০-র বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে ওলি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করা যায়।
আরও পড়ুনঃ Nepal protest: নেপালের সংসদে ঢুকে পড়ল ছাত্ররা! সোশাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ, পুলিশের গুলির মধ্যেও থামছে না উত্তেজনা!
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নেপালের ঘটনাও ঘটছে বলে একাংশ জনগণ দাবি করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, জনগণের ক্ষোভ ও বিক্ষোভকে উপেক্ষা করলে যে কোনও সরকারকেই শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হয়। মানুষ তাই নেপালের এই ঘটনাকে কেবল প্রতিবেশী দেশের সংকট হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক শিক্ষার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন।





