আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে ভয়ের নাম ‘ক্যানসার’। পাড়ার পরিচিত কাকিমা হোক বা বাড়ির কোনও প্রিয়জন—এই রোগের নাম শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে সকলের। সমস্যা হল, অনেক সময় শরীরে রোগ বাসা বাঁধলেও তা টের পাওয়া যায় না। যখন জানা যায়, তখন অনেকটা দেরি হয়ে যায়। অথচ যদি সময় থাকতে সাবধান হওয়া যায়, তাহলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।
বেশিরভাগ মানুষই জানেন না কোন ক্যানসারের জন্য কী পরীক্ষা দরকার। স্তনের ক্যানসার হলে ম্যামোগ্রাফি, কোলনের জন্য কোলনোস্কোপি, ফুসফুসে হলে সিটি স্ক্যান—এত সব আলাদা আলাদা পরীক্ষার খরচ ও ঝক্কি সাধারণ মানুষের পক্ষে সামলানো দুষ্কর। ফলে বহু ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা শুরু হয় না। তাই যদি এমন একটা উপায় থাকত, যাতে একটিমাত্র রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যেত শরীরে কোথাও কোনও ক্যানসার বাসা বেঁধেছে কি না!
এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন নাসিকের চিকিৎসক রাজ নগরকর এবং তাঁর গবেষক দল। তাঁদের দাবি, এমন একটি রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, যা একসঙ্গে ৩০ রকম ক্যানসার নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ৬,৪৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে ২৮০০ জনের শরীরে একেবারে গোড়ার দিকেই ক্যানসার ধরা পড়েছে। এমনকি, রোগ কতটা ছড়িয়েছে তাও বুঝতে পারছেন চিকিৎসকেরা। ফলে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যাচ্ছে, বাড়ছে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও।
এই নতুন পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘মাল্টি-ক্যানসার আর্লি ডিটেকশন’, সংক্ষেপে ‘MCED’। রক্তে থাকা নানা ধরনের রাসায়নিক কণার (মেটাবোলাইট) উপস্থিতি থেকেই জানা যায় শরীরে কী ধরনের ক্যানসার রয়েছে। প্রতিটি ক্যানসারের নিজের নিজস্ব মেটাবোলাইট প্রোফাইল থাকে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করছে অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি—‘CDAI’। এই পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে হাই-রেজোলিউশন মাস স্পেকট্রোমেট্রি, যার মাধ্যমে প্রতিটি নমুনা খুব সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ Indian Pakistan conflict : জঙ্গিদের সঙ্গেই পাক অফিসার! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের মুখোশ প্রকাশ করল ভারত!
আজকের দিনে যেখানে বিভিন্ন ক্যানসারের জন্য একাধিক আলাদা স্ক্রিনিং টেস্ট করতে হয়, সেখানে একটি মাত্র ব্লাড টেস্ট যদি সব ক্যানসার চিহ্নিত করতে পারে—তা হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হবে। রিপোর্ট বলছে, প্রথম থেকে তৃতীয় স্তর পর্যন্ত ক্যানসার নিরাময় সম্ভব হলে, তা জীবনদায়ী হতে পারে বহু রোগীর কাছে। ইতিমধ্যেই এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিক্যাল জার্নাল ‘ক্যানসার রিপোর্ট’-এ। ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চিকিৎসা পদ্ধতির দিশা বদলে দিতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।





