India pakistan war : পরমাণু অস্ত্র নয়, কিন্তু প্রয়োজন হলে কিছুই রেহাই পাবে না!— ভারতের বিরুদ্ধে বার্তা পাকিস্তানের!

বছরের এই সময়টা সাধারণত পাকিস্তান-ভারতের সীমান্তে বেশি উত্তেজনা তৈরি করে। নানা কারণেই সীমান্ত বরাবর সেনা মোতায়েন বাড়ে, পাল্টাপাল্টি বিবৃতি শুরু হয়, আর সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয় একটা অদৃশ্য চাপ। দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর—ফলে কোনও সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেই আতঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়ে। অথচ এইসব আবহে সবচেয়ে জরুরি শান্তির বার্তা।

যখনই ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক বা সামরিক টানাপোড়েন বাড়ে, তখন শুধু দুই দেশের নয়, গোটা বিশ্বের চোখ থাকে এই উপমহাদেশের দিকেই। কারণ দুটি দেশই পরমাণু শক্তিধর। একপেশে কোনও সিদ্ধান্ত বা হঠাৎ কোনও উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া কখন যে আন্তর্জাতিক শান্তি নষ্ট করতে পারে, বলা যায় না। ঠিক এই সময়েই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে কিঞ্চিৎ স্বস্তির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নতুন এক ধরণের শঙ্কা।

ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের কোনও ভাবনাতেই নেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, পাকিস্তানের ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি’ (NCA) – যেটি দেশের পরমাণু অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় – তার বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্তু খোয়াজা জানিয়ে দেন, ‘‘NCA-এর কোনও বৈঠক হয়নি এবং হওয়ার কথাও নয়।’’

এই স্বস্তির বার্তার মাঝেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাতে শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, বিশ্বও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ অর্থাৎ সংঘাত সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তার অভিঘাত পড়তে পারে আন্তর্জাতিক স্তরেও। আসিফ আরও বলেন, ‘‘ভারত পরিস্থিতি কোথায় নিয়ে যাবে, তার উপর ভিত্তি করেই আমাদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।’’

প্রথমদিকে খবর ছড়িয়েছিল, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ NCA-এর বৈঠক ডেকেছেন। কারণ এই কমিটির নেতৃত্বে তিনিই রয়েছেন। সদস্য হিসেবে থাকেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, ও শিল্পমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন’-এর নেতৃত্ব ও আইএসআই প্রধান। তবে পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ সেই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ India pakistan war : একসঙ্গে ২৬ বার আঘাত পাকিস্তানের! কিন্তু সীমান্তে চরম জবাব ভারতীয় বাহিনীর, পালটা জবাবে কাঁপছে শিয়ালকোট থেকে করাচি !

খোয়াজা আসিফের বক্তব্যে আপাতত পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়ে গেলেও, ‘কিন্তু’-র মধ্যে দিয়ে যে বার্তা পৌঁছেছে, তাতে আশঙ্কা পুরোপুরি শেষ হয়নি। দুই দেশের নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণই পারে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ককে থামাতে। কারণ এ যুদ্ধ যদি শুরু হয়, থামবে কোথায়, কেউই জানে না।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles