পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চাপানউতোর বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইমরান খানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি নতুন করে নজর কেড়েছে। প্রদেশটিতে প্রশাসন ও শাসকদলের সম্পর্ক দিনদিন তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ যে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে গড়াতে পারে।
সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে রাতভর অবস্থান করেন এবং স্পষ্ট দাবি জানান—ইমরান খানকে নিয়ে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে সরকার শুরু থেকেই চাপে পড়ে। বহুদিন ধরেই ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে যে প্রতিবাদ চলছে, সোহেলের এই পদক্ষেপ সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এরপরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রের শেহবাজ শরিফ সরকার। মন্ত্রিসভার সদস্য আকিল মালিক ইঙ্গিত দেন যে, প্রদেশটিতে রাজ্যপাল শাসন চালু করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারের মতে, মুখ্যমন্ত্রী ক্রমাগত কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে অস্বীকার করছেন এবং এতে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাক প্রশাসন মনে করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভেঙে পড়তে পারে।
আকিল মালিক পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ এবং ২৩৪ ধারার উল্লেখ করে জানান—প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কোনও প্রদেশে রাজ্যপাল শাসন জারি করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে এটি দুই মাস চালু থাকে, পরে প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে। রাষ্ট্রপতি নিজ উদ্যোগেও এই ব্যবস্থা নিতে পারেন, পরে সংসদের যৌথ অধিবেশন থেকে অনুমোদন নিতে হয়। অর্থাৎ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে খাইবার পাখতুনখাওয়া সরাসরি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : দাবিপত্র জমা দিতে গিয়েই ঘিরে ফেলল বিক্ষোভকারীরা! সিইও দফতরের সামনে তৃণমূলপন্থী সংগঠনের ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল!
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশটি ইমরান খানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে তাঁর দলেরই ক্ষমতা, আর জনসমর্থনও বিপুল। ফলে মুখ্যমন্ত্রী যখন নিজেই রাস্তায় নেমে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন, তখন প্রশাসন উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক। আগেও এই অঞ্চলে ইমরান খানের সমর্থনে আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা—কারণ এবার সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন প্রদেশের প্রধান প্রশাসনিক নেতা। সব মিলিয়ে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, এমনটাই অনুমান বিশ্লেষকদের।





