Delhi Crime: ভয়ঙ্কর প্রেম ও খুনের ছক! পার্টির ছলে স্বামীকে হত্যা, দেহ ছোড়া হল খাদে — অভিযুক্ত স্ত্রী ও প্রেমিক

দিল্লি: একের পর এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠছে দেশ। ইনদওরের রাজা রঘুবংশী হত্যার রেশ না কাটতেই আরও এক ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে এল দিল্লি থেকে। দক্ষিণ দিল্লির বাসিন্দা ৫৬ বছরের রবীন্দ্র কুমারকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেহ ফেলে দেওয়া হয় উত্তরাখণ্ডের একটি পাহাড়ি খাদে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার স্ত্রী রিনা সিন্ধু এবং তার প্রেমিক পরিতোষ।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ড পুলিশ এই খুনের নেপথ্যে থাকা প্রেম, সম্পত্তি বিতর্ক ও বৈবাহিক দ্বন্দ্বের জটিল ষড়যন্ত্রের খোলসা করেছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিনা সিন্ধু পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। কয়েক বছর আগে পরিতোষ নামের এক যুবক চিকিৎসার জন্য তাঁর ক্লিনিকে গেলে ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

রবীন্দ্র কুমার কিছুদিন জেলেও ছিলেন চেক বাউন্সের মামলায়। সেই সময় স্ত্রী রিনা পরিতোষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে ১৮ লক্ষ টাকার ঋণের চাপ এবং সম্পত্তি বিক্রির পরিকল্পনাও নেন রিনা। গত বছর থেকে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ বাড়ছিল। অবশেষে ৩১ মে রিনা পার্টি করার নাম করে স্বামীকে উত্তরপ্রদেশের নাগিনায় পরিতোষের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। সেখানেই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা।

পার্টির ছলে স্বামীকে প্রথমে মদ্যপ করানো হয়। এরপর রিনা ও পরিতোষ মিলে তাঁর ঘাড় ও বুকে আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর দেহ একটি SUV-তে করে রামনগর হয়ে কোটদ্বারে নিয়ে গিয়ে গভীর রাতে খাদে ফেলে দেন। হত্যার পর গাড়িটি নয়ডায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেন।

আরও পড়ুনঃ Weather update : ফের একটানা বৃষ্টি শুরু, আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ! ছুটির দিনেও স্বস্তি নেই বঙ্গবাসীর!

প্রথমে এটি একটি পথদুর্ঘটনা বলেই মনে করেছিল পুলিশ। কিন্তু ময়নাতদন্তে ধরা পড়ে পাঁজরের হাড় ভাঙার মতো ক্ষতচিহ্ন, যা স্পষ্ট করে দেয় এটি একটি খুন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন ও প্রযুক্তিগত সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে চলে। দেখা যায়, খুনের সময় রিনা ও পরিতোষ কোটদ্বার এলাকায় ছিলেন। গেস্ট হাউস বুকিং, কুমারের পকেটে থাকা একটি স্লিপ এবং SUV গাড়ির অবস্থান—এই সমস্ত তথ্য একত্র করে পুলিশ শেষপর্যন্ত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর গোটা এলাকা এবং রাজনীতির মহলেও তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু এক ব্যক্তি নয়, গোটা সমাজের বিশ্বাস ও সম্পর্কের উপর এক গভীর আঘাত।

RELATED Articles