আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে একের পর এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশেষ করে এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত, রাশিয়া এবং চীনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনার ঝড়। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন, যা আরও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান কি দুর্বল হচ্ছে?
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে বলেছেন, “মনে হচ্ছে আমরা ভারত এবং রাশিয়াকে সবচেয়ে গভীরতম, অন্ধকারতম চীনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি। তাদের একসাথে দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ হোক।” এই বক্তব্য অনেকের কাছে রসিকতা হলেও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের হতাশা এবং উদ্বেগের প্রকাশ। কেননা আমেরিকার চোখে এতদিন ভারতকে চীনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়েছে, অথচ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতকেই চীনের সঙ্গে সহযোগিতার পথে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।
বিতর্কিত এই মন্তব্য এসেছে এক বিশেষ সময়ে। চীনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক মঞ্চে বসেছিলেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল মোদীর প্রথম চীন সফর। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দু’দেশের সম্পর্কে যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
মোদী, শি জিনপিং এবং পুতিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল জ্বালানি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যন্ত নানা বিষয়। ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতা নিয়েও তিন নেতা খোলাখুলি মত বিনিময় করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক থেকে বার্তা স্পষ্ট—তিন দেশ নিজেদের স্বার্থে সহযোগিতার পথ খুঁজছে, যা আমেরিকার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য এবং চীনের প্রতি নমনীয় অবস্থান ওয়াশিংটনের চাপকে কমিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ব্রেন স্ট্রোক, ফুসফুসে সংক্রমণ! আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রশাসন ভারতকে একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখেছে। ট্রাম্প নিজে ক্ষমতায় থাকাকালীন “হাউডি মোদী” সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে সম্পর্কের দৃঢ়তার বার্তা দিয়েছিলেন। কোয়াডের মতো উদ্যোগকেও সক্রিয় করেছিলেন। তবু বর্তমানে পরিস্থিতি অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পথে হাঁটছে কোনও একক জোটের ছায়ায় না থেকে নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আর এই পরিবর্তনকেই ব্যঙ্গের ছলে তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেটি কেবল একটি মন্তব্য নয়, বরং ভবিষ্যতের ভূরাজনীতির সম্ভাব্য ছবিও স্পষ্ট করছে।





