ওড়িশা কার্যত এখন ধ্বংসস্তূপ। তারমধ্যেই নতুন করে পথ চলার চেষ্টা।

কাল সকাল ৯ টা নাগাদ প্রবল শক্তি নিয়ে ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পরেছিল ‘ফণী’ সাইক্লোন৷ প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ঘন্টায় প্রায় ১৭৫ থকে ২০০ কিমি গতিবেগে ওড়িশার পুরী সহ অন্যান্য স্থানে তান্ডব চালানোর পর। গভীর রাতে বাংলাতে প্রবেশ করে ‘ফণী’। বাংলাতে প্রবেশের পূর্বেই ‘ফণী’ তার শক্তি হারিয়ে ফেলায়, এই রাজ্যে তেমন একটা প্রভাব পরেনি ‘ফণী’ র। যদিও দিঘা-তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর।

আরও পড়ুন – বাংলায় ঢোকার পূর্বেই দ্রুত শক্তি হারিয়েছিল ‘ফণী’। জানালো আবহাওয়া দপ্তর।

 

পশ্চিমবঙ্গে তেমন তান্ডব না চালাতে পারলেও ‘ফণী’ ওড়িশা উপকূলকে কার্যত পরিনত করেছে ধ্বংসস্তূপে। সারি সারি ভেঙে পরেছে কাঁচা কমজোড়ি বাড়িঘর৷ এমনকি দুর্বল পাকা বাড়িও কিছু ভেঙে পরেছে৷ ঝড়ের দাপটে উল্টে গিয়েছে অনেক গাড়ি এমনকি বাসও। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুবনেশ্বরের KIIT বিশ্ববিদ্যালয়ও৷ চারদিকে রাস্তা আটকে পরে রয়েছে গাছপালা, ফলে পথ চলাও হয়ে উঠেছে দুষ্কর। তবুও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন ওড়িশাবাসীরা। তবে ওড়িশার এখন সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো পাণীয় জলের অভাব এবং বিদ্যুত বিভ্রাট৷

আরও পড়ুন – ‘ফণী’-র প্রভাব এই রাজ্যে৷ দিঘা-তে উত্তাল সমুদ্র।

ওড়িশাতে ‘ফণী’ এর তান্ডবে ইতিমধ্যেই ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে৷ এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিপর্যয় মোকাবেলা দলের সদস্যরা৷ কার্যত ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে ভুবনেশ্বরের বিমানবন্দর৷ টার্মিনালের ছাদ সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে৷ চেষ্টা চলছে ধ্বংসস্তূপের আবর্জনা সরিয়ে যতো দ্রুত সম্ভব ফের বিমান পরিষেবা চালু করার। ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ ওড়িশাতে। এমতাবস্থায় দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে তৎপর ওড়িশা সরকার। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই বিধ্বংসী ঝড়েও একদম অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পুরীর কয়েক শতাব্দী প্রাচীন জগন্নাথ দেবের মন্দির।

RELATED Articles

Leave a Comment