আর বাড়ি ফেরা হলো না পরিযায়ীদের, অপূর্ন রয়ে গেল জীবন সংগ্রাম

দেশে করোনার জেরে দুর্বার হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন। আর এই দুর্দিনে যারা নিজ রাজ্য ছেড়ে পরিযায়ী তাদের অবস্হা আরো শোচনীয়। করোনা রুখতে হঠাৎ ঘোষিত লকডাউনে সমস্ত পরিবহন ব্যবস্থা থমকে যায়, তাই তাদের আর বাড়ি ফেরা হয়নি। এরপর শুরু হতে থাকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এবারে তৃতীয় পর্যায়-এর লকডাউনের শুরুতে কেন্দ্রের তরফে তাদের জন্য কিছু ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু তার পরেও বাড়ি ফেরা হলো না ১৬ জনের। সারা রাত হেঁটে ঔরঙ্গাবাদে এসে পৌঁছানোর পর ক্লান্ত শরীরে একটু বিশ্রামের আশায় রেললাইনের ওপরই লুটিয়ে পড়ে তারা। তারপর আজ ভোররাতে মালবাহী ট্রেন পিষে দিয়ে যায় ১৬ জন শ্রমিক ও তাঁদের সন্তানসন্ততিকে।

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার আমৃত্যু লড়াই চলেছে গোটা দেশ-এ। লকডাউনের জেরে বন্ধ হয়েছে রোজগার। সংসারে টাকার অভাবে হাঁড়ি চড়ে না, বাড়িভাড়া দিতে না পারায় বাড়ি থেকে উৎখাত পর্যন্ত হয় ওরা। এরপরই শুরু হয় সরকারের কাছে অকাতরে সাহায্য ভিক্ষা। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না দেখে নিজেরাই উদ্যোগী হলেন বাড়ি ফিরতে। ট্রেন বাস চলছে না, কিন্তু তাদের পায়ের কোনো বিশ্রাম নেই। কেউ কোলে ১৭ দিনের শিশু নিয়ে হাঁটছেন, কোথাও পরিশ্রমে ছোট্ট শরীর পথেই লুটিয়ে পড়ছে শেষবারের মত। কোথাও তাঁদের ওপর হচ্ছে লাঠিচার্জ, আবার কোথাও গ্রামের মানুষ বসিয়ে খাওয়াচ্ছেন একবেলার খাবার। এভাবেই উত্তর ভারতের নানা রাজ্যের শ্রমিকের সংগ্রাম চলতে থাকে। তাঁরা কাজ করতেন মহারাষ্ট্রের জালনা জেলায় একটি ইস্পাত কারখানায়। লকডাউনে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হেঁটে বাড়ির পথ ধরেন তাঁরা।

গতকালই ঔরঙ্গাবাদ থেকে একটি ট্রেন মধ্যপ্রদেশের উদ্দেশে ছাড়ে। তাই সেই ট্রেন ধরতেই এই ১৬ জন হেঁটে ঔরঙ্গাবাদ আসছিলেন। রাস্তা দিয়ে এলে পুলিশ ধরতে পারে সেই ভয় তাঁরা রেললাইন ধরে আসছিলেন। ইচ্ছে ছিল, মধ্য প্রদেশ এসে ট্রেন বদলে নিজের নিজের রাজ্যে যাবেন। রেললাইন ধরে ৬৫ কিলোমিটার হেঁটে তাঁরা পৌঁছন ঔরঙ্গাবাদের কারমাড থানা এলাকায়। এত হাঁটার পর ক্লান্তির ভারে সাতানা আর কারমাডের মাঝেই রেললাইনে শুয়ে পড়েন বিশ্রামের জন্য। এরপর ভোর সাড়ে পাঁচটায় তাদের পরিশ্রান্ত শরীরের দিকে ছুটে আসে ট্রেন।

ঔরঙ্গাবাদ-এর গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট মোক্ষদা পাটিল, আরপিএফ ও কারমাড থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। আহত ৩ শ্রমিককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment