মোদির প্রশংসা ‘সমাজের ক্ষমতায়নের পক্ষে যথেষ্ট বাজেট’! মধ্যবিত্তের ও কৃষকদের জন্য রইল কি কি সুবিধা?

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন, যেখানে মধ্যবিত্তদের করছাড়, জীবনদায়ী ওষুধের মূল্য হ্রাস, শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ, এবং কৃষকদের ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট পেশের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, “বাজেট খুব ভালো হয়েছে, সবাই আপনার প্রশংসা করছে।”

এই বাজেটে আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্তদের জন্য স্বস্তিদায়ক। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য টিডিএস ছাড়ের সীমা ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হাউস রেন্টের টিডিএস ডিডাকশন ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, বিমা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ১০০ শতাংশ করা হয়েছে, যা এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

জীবনদায়ী ওষুধের মূল্য হ্রাসের জন্য আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কৃষকদের জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এছাড়া, মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়নে ১,০০০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে, যা এই খাতে নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণাকে উৎসাহিত করবে।

বাজেট পেশের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, “এই বাজেট সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের ক্ষমতায়নের পক্ষে যথেষ্ট। দেশের গ্রামগুলিতে সমৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও কৃষক সাধারণের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে এই বাজেট।”

বাজেটের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণার মধ্যে রয়েছে পিভিসি পাইপের উপর শুল্ক বৃদ্ধি, মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে বেসিক কাস্টমস ডিউটি (বিসিডি) কমানো, এবং তিনটি ক্যান্সারের ওষুধে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া। এছাড়া, রাজকোষ ঘাটতি ৪.৯ শতাংশে রাখা হয়েছে এবং রাজকোষ ঘাটতি কমিয়ে ৪.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের জন্যও বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনম-চেন্নাই করিডোরের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে, কলকাতা-অমৃতসর ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরের ঘোষণা করা হয়েছে, এবং বিহারে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, শহরে আবাস যোজনায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তদের জন্য মোদীর নতুন উপহার! ১২ লাখ পর্যন্ত জিরো আয়কর, লিখলেন অমিত শাহ

মোটের উপর, এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার মধ্যবিত্ত, প্রবীণ নাগরিক, কৃষক, এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

RELATED Articles