২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট ঘিরে দেশজুড়ে চর্চা তুঙ্গে। প্রতিবারের মতো এই বছরও কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে নজর ছিল সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলের। বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য থাকল বড়সড় চমক। ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের ওষুধের দাম কমানো থেকে শুরু করে আয়করে বিরাট ছাড়—এই বাজেটের বিভিন্ন দিক সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশা জাগিয়েছে। তবে এই ঘোষণাগুলি শুধু মধ্যবিত্ত নয়, গোটা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে কতটা প্রভাবিত করবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাজেট ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, “মধ্যবিত্ত সবসময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হৃদয়ে রয়েছেন।” এবারের বাজেটে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও আয়কর দিতে হবে না। তিনি দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্তের উপর আর্থিক চাপ কমাবে এবং তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদী সবসময় মধ্যবিত্তের উন্নয়ন ও কল্যাণে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই করছাড়ের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত আরও স্বাচ্ছন্দ্যে অর্থনৈতিক উন্নতির পথে এগোতে পারবে।”
বিজেপি নেতা ও এমপি সুকান্ত মজুমদারও একই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, “১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হবে না, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য বড় স্বস্তি।” পাশাপাশি, এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের কটন হোসিয়ারি শিল্পের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “এই বাজেট শিল্পায়নের বাজেট। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ক্যানসারসহ ৩৬টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দামে ছাড় পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর দিকেও সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলে মত একাংশের। করদাতাদের শিক্ষিত বলে উল্লেখ করে শমীক ভট্টাচার্য জানান, “তাদের বাজেট বোঝানোর জন্য বিরোধীদের প্রয়োজন হবে না।”
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের আক্রমণে তিলোত্তমার বাবা-মা! তিলোত্তমার বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া: ‘টাকা নয়, মেয়ে ফিরিয়ে দিন’
যদিও আয়করে এই ছাড় অনেককে স্বস্তি দিলেও, কিছু মানুষের মতে, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আনলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হতো। বাজেট ঘোষণার পর থেকে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা ভীষণ খুশি। তবে শেষ পর্যন্ত এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কতটা উপকার হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





