গত পাঁচ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৪২ জন শিশু। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে এমন চিত্র ধরা পড়েছে। এর জেরে বেড়েছে তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা। রাজ্যের কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার কর্ণাটকে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩৩৮-এ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।
আগেই বিশেষজ্ঞদের তরফে জানানো হয়েছিল যে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবথেকে বেশি। তাহলে কী সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে? অন্তত বেঙ্গালুরুতে শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট তেমনটাই নির্দেশ করছে। এও জানা গিয়েছে যে পাঁচদিনে শহরে যে ২৪২ জন শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তাদের সকলের বয়স ১৯-এর নীচে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ১০৬ জনের বয়স ৯ বছরের নীচে ও বাকী ১৩৬ জনের জনের বয়স ৯-১৯ বছরের মধ্যে। এই সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বাড়িয়েছে কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, “’বড়দের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অনেক কম। আগামী দিনে এই সংখ্যাটা তিনগুন হয়ে যাবে। কয়েকদিনের মধ্যেই এই পরিস্থিতি হবে রাজ্যে। তাই এখন শিশুদের আর বাইরে বেরোতে দেওয়া উচিত নয়”।
করোনা রুখতে রাজ্যে ইতিমধ্যেই নানান নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্ণাটক সরকার। সপ্তাহ শেষে সব জেলায় কার্ফু জারি হয়েছে। কেরল-কর্ণাটক ছাড়াও মহারাষ্ট্র-কর্ণাটকে প্রবেশের রাস্তায় বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। আরটিপিসিআর রিপোর্ট দেখে তবেই রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টার আগে এই পরীক্ষা হলে প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না কর্ণাটক সরকার।
রাজ্যের কোভিড বুলেটিন অনুযায়ী, গত একমাসে রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০০ জন করে নতুন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এই অবস্থায় বেশ চিন্তায় পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্বাই। করোনা সংক্রমণ রুখতে রাজ্যে টিকাকরণে গতি আনার কথা ভাবছেন তিনি। বর্তমানে সে রাজ্যে মাসে ৬৫ লক্ষ করে টিকাকরণ হচ্ছে। সেই সংখ্যা ১ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।





