এক রাতের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, যেখানে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহত হয়েছে নিরস্ত্র প্রাণ। এরই মধ্যে, বেশ কয়েকটি পরিবারের চিরতরে হারিয়ে গেছে তাদের প্রিয়জন। নির্জন জঙ্গলের মধ্যে গুলি আর ধোঁয়ার তাণ্ডবে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠেছে ভয়ংকর। নিরাপত্তাবাহিনী এবং মাওবাদীদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে কতটা তীব্র হতে পারে তা বোধহয় জানত না সে সব মা-বাবা, ভাই-বোন যারা হারিয়েছেন তাদের প্রিয় মানুষগুলো। এই সংঘর্ষের মধ্যে শুধু নিহত নয়, রয়েছে কষ্ট, হতাশা আর বেদনার এক অশ্রু ঝরা গল্প।
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া অভিযানে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মাওবাদীদের ‘পশ্চিম বস্তার ডিভিশন’ সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কে খবর পেয়েছিল। এরপরই সেখানে অভিযান শুরু হয়। সেই অভিযানেই, ৩১ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। সিআরপিএফ, ছত্তীসগঢ় সশস্ত্র পুলিশ এবং কোবরা ইউনিটের যৌথ বাহিনী মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া গুলির লড়াইয়ে ১২ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। পরবর্তীতে আরও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে বাকি মাওবাদী সদস্যদেরও মৃত্যু হয়।
তবে, এই অভিযানেও নিরাপত্তাবাহিনীর দুটি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, এবং আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত, কারণ গুলি বিনিময় চলছেই। এই সংঘর্ষ এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটে, যেখানে এর আগে বিজাপুরেই যৌথ বাহিনী আটজন মাওবাদীকে হত্যার পর এলাকাটি শান্ত হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার অভিযানের আগেই মাওবাদী দলের ‘পশ্চিম বস্তার ডিভিশন’ সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। এদিকে, সরকারের একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মাওবাদী দমন অভিযানের দিকে নজর রাখা হচ্ছে, যেখানে সরকারের একাধিক প্রস্তাব ও ভ্রাতৃত্বের আহ্বান রয়েছে। মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের জন্য বিশেষ সুবিধাও প্রদান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অ’গ্নিকাণ্ডে ধ্বং’স নারকেলডাঙা! ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগান!
এখন সবচেয়ে বড় মোড়টা হচ্ছে, মাওবাদী নেতাদের আত্মসমর্পণ। গান্ধী তাঁতি, মাইনু কোর্রাম, রঞ্জিত লেকামি এবং আরও বেশ কিছু মাওবাদী নেতা ইতিমধ্যেই নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এটি প্রমাণ করে, সরকারের কৌশল এবং মাওবাদী দমন অভিযানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।





