এক রাতের বিভীষিকা। চারপাশে শুধুই ধোঁয়া আর আগুনের তাণ্ডব। কারও মাথার উপর থেকে হারিয়ে গেছে ছাদ, কারও চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বছরের পর বছরের সঞ্চয়। কেউ বুকফাটা কান্নায় হারানো প্রিয়জনকে খুঁজছেন, কেউ আবার ছাইয়ের গাদায় হাতড়ে ফিরছেন শেষ সম্বলটুকু খুঁজে পাওয়ার আশায়। এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসা মানুষগুলোর চোখে এখন শুধুই হতাশা আর ভয়। আগুনের শিখায় মিশে গেছে তাঁদের জীবনের স্বপ্ন। নারকেলডাঙার সেই খালপাড় এলাকা সাক্ষী হয়ে রইল অসংখ্য ভাঙা মন আর অগণিত নিরাশ মানুষের।
শনিবার রাতে নারকেলডাঙার খালপাড় এলাকায় ঘটে এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৩০টিরও বেশি ঝুপড়ি। মৃত্যু হয় হাবিবুল্লা মোল্লা নামে এক ব্যক্তির, যিনি উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি খালপাড়ের একটি গোডাউনে কাজ করতেন এবং সেখানেই ঘুমিয়ে থাকতেন। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর মেয়ে বলেন, “আমার বাবা নেই। আমি দুনিয়ায় একা হয়ে গেলাম।”
ঝুপড়ির বাসিন্দাদের দাবি, ফায়ার ব্রিগেড দেরিতে পৌঁছেছে। এক বাসিন্দা বলেন, “আগুন লাগার পর আমরা ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করি। ওরা যদি হাঁটতে হাঁটতেও আসত, তাহলে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যেত। কিন্তু ফায়ার ব্রিগেড এসেছে এক ঘণ্টা পর। তখন সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের গয়নাগাটি, দরকারি নথি, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।” এমনকি ছোট শিশুদের স্মৃতিচিহ্নও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সচিন সিংহের বিরুদ্ধে ওঠে অর্থ তোলার অভিযোগ। মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। “চোর” স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে থানার সামনে তৃণমূল নেতাদের অবস্থানে বসতে হয়। যদিও মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কোনও রাজনীতিতে যাব না। আইন অনুযায়ী সব কিছু হবে।”
আরও পড়ুনঃ শ্বশুরবাড়ির অমানবিক নির্যাতন! স্বামীর মারধর! অবশেষে মুখ খুললেন বঙ্গকন্যা মৈত্রী ভট্টাচার্য!
তবে এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে আসল কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গোডাউন থেকে আগুন লেগেছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং ষড়যন্ত্র। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া জীবন গুছিয়ে তোলাই এখন বাসিন্দাদের একমাত্র লক্ষ্য। তবে তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন এক বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে।





