Covid-19: আমি অনেক বেঁচেছি! সহ-নাগরিককে বাঁচাতে হাসপাতালের  শয্যা ছাড়লেন ৮৫-র নারায়ণ দাভালকর, মৃত্যু বর্ষীয়ান RSS কর্মী’র

তীব্র কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত। এতটা দুঃসময়ে আসতে পারে তা কল্পনাও করতে পারিনি দেশের কোন‌ও নাগরিক। বেঁচে থাকাটাই এখন বিস্ময়। লড়াই চলছে প্রতিটা মুহূর্তে। বাঁচার জন্য অক্সিজেনের অভাব মৃত্যুর পরে দাহ করার কাঠের অভাব।

নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেন, প্রতিষেধক, ওষুধ কিছুই। নেই হাসপাতালের শয্যা টুকুও। এই রকম সঙ্কটময় অবস্থায় নিজের প্রাণ দিয়ে সহ-নাগরিককে বাঁচানোর চেষ্টা করে গেলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর এক প্রবীণ সদস্য। ৪০ বছরের এক ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে শয্যা ছেড়ে দিয়েছিলেন বছর ৮৫-র নারায়ণ দাভালকর। তারপর‌ই মঙ্গলবার মৃত্যু হয় তাঁর। এই মানবিক ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল নাগপুরে ইন্দিরা গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল করোনা আক্রান্ত নারায়ণ দাভালকরকে। প্রবল শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তাঁর। কিন্তু তারপরও হাসপাতালে শয্যা ছেড়ে দিতে চান তিনি। ডাক্তাররা নিষেধ করলেও শোনেনি বৃদ্ধ ।

আরও পড়ুন- বলিউডের মানবিক মুখ, ১০০ অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দান করলেন অক্ষয়-টুইঙ্কেল জুটি!

কারণ হিসেবে জানা যায়, ওই হাসপাতালেই দাভালকর দেখতে পান, নিজের বছর ৪০-র স্বামীকে ভর্তি করানোর জন্য কাতর মিনতি করছেন তাঁর স্ত্রী। এই দৃশ্য দেখার পরই দাভালকর সিদ্ধান্ত নেন শয্যা ছেড়ে দেবেন। চিকিৎসকদের তিনি জানান,”আমার বয়স ৮৫। অনেক বেঁচেছি। ওই যুবকের জীবন বাঁচানো অনেক বেশি দরকার। ওদের ছেলেমেয়েও আছে। দয়া আমার বেডটা ওকে দিন।”

রোগী নিজেই থাকতে না চাওয়ায় হাসপাতাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তার ৩ দিন পরে মৃত্যু হয় দাভালকরের। তাঁর মেয়ে আশাবরী কোটিওয়ানের কথায়, ”অনেক কষ্ট করে ২২শে এপ্রিল হাসপাতালে একটা শয্যা পেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে আসেন বাবা। পরিবারের সঙ্গে শেষ মুহূর্ত কাটাতে চান বলে আমাদের জানান।”

হাসপাতাল সূত্রে খবর, দাভালকর শয্যা ছেড়ে দিয়েছেন বলে ওই ব্যক্তিকে তা দেওয়া হবে, এমনটা রীতি নেই। কাকে শয্যা দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরাই। দাভালকরকে কোভিড-১৯ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়নি ক্যাসুয়ালটি বিভাগে ছিলেন তিনি। কেউ স্বেচ্ছায় শয্যা ছেড়ে দিলে অন্য কাউকে ভর্তি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

RELATED Articles